New controversy over leadership within the Trinamool! Mamata's future in question amidst the focus on Abhishek!

তৃণমূলে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক! অভিষেককে ঘিরে প্রশ্নের মুখে মমতার ভবিষ্যৎ!

সময় যত এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে । সাম্প্রতিক একাধিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দলকে পুনর্গঠনের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি অভিষেককে সরানোর মত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? এই বিতর্ককে ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচালিত এক জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া, যা এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ গ্রেফতার হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের একাংশের ভূমিকা এবং নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। একই সময়ে দলের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনও দাবি করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি অভিষেককে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দলের বহু পুরনো নেতাকর্মী আবার সক্রিয়ভাবে ফিরতে পারেন।
এই প্রেক্ষাপটেই একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানের পোল সেগমেন্টে কয়েকটি প্রশ্ন রাখা হয়। অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং থ্রেডস-সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আগেই এই প্রশ্নগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানকার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে করা প্রশ্নটি। জানতে চাওয়া হয়েছিল, দল বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি অভিষেকের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ১৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’ বললেও, ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না। বাকি ৩ শতাংশ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁদের নির্দিষ্ট মত নেই।
অন্যদিকে, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়। তীর্থঙ্কর ঘোষের গ্রেফতারের পর নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিয়েছেন। মাত্র ৫ শতাংশ ‘না’ বলেছেন এবং ৪ শতাংশ কোনও নির্দিষ্ট মত দেননি।
আরও একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অভিযোগের চাপে গ্রেফতারি এড়ানোর উদ্দেশ্যেই কি নির্মল ঘোষ দ্রুত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নে ৯৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। মাত্র ১ শতাংশ ‘না’ বলেছেন এবং ১ শতাংশ কোনও মত প্রকাশ করেননি।
এছাড়া আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণ লোপাট থেকে শুরু করে অন্যান্য অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে এতদিন পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে দায়ী করা যায় কি না, সেই প্রশ্নেও বড় অংশ ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিয়েছেন। সমীক্ষায় ৯৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দীর্ঘদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও ২ শতাংশ এই মতের সঙ্গে একমত নন এবং ৩ শতাংশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চলা বিতর্ক, তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যে এই জনমত সমীক্ষার ফলাফল নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে, আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এই বিতর্কের মোকাবিলায় কী অবস্থান গ্রহণ করে এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক কৌশলে কোনও বড় পরিবর্তন আসে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *