পুলিশের চাকরিতেও বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকে ভুঁড়ি। অনেক পুলিশ কর্মীর বড় ভুড়ি লক্ষ্য করা যায়! তবে এবার আর নয়। সুস্থ এবং সতেজ রাখতে পুলিশকর্মীদেরও এবার নিয়মিত শরীরচর্চা করতে বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এহেন নির্দেশের পরেই ময়দানে পুলিশ। বিভিন্ন থানায় শুরু হয়েছে শরীরচর্চার অনুশীলন। মর্নিং ওয়াক থেকে মাঠে দৌড়ানো, ব্যায়াম সবই চলছে। এজন্য নিয়োগ করা হয়েছে প্রশিক্ষিত ট্রেনারও। হুগলির চন্দননগর কমিশনারেট দিয়ে শুরু। সকাল থেকেই যোগ ব্যায়াম পুলিশকর্মীদের।সেখানে কেউ কেউ ৮০০ মিটার পর্যন্ত দৌড়লেন, কেউ আবার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কী রুটিন বেঁধে দিয়েছেন?পুলিশকর্মীদের পাঁচ কিলোমিটার মর্নিং ওয়াক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন তা করতেই হবে। শুধু পুরুষরাই নয়, এই তালিকায় রয়েছেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। বিশ্লেষকরা বলছেন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্ত হাতে সামলাতে পুলিশ বাহিনীর শারীরিক সক্ষমতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এমনটাই মনে করছে একাংশ। দীর্ঘদিন ধরে ভুঁড়িওয়ালা পুলিশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সমালোচনা ছিল। সেই ভাবমূর্তি বদলাতেই এবার কড়া ফিটনেস রুটিন, নিয়মিত শরীরচর্চা, দৌড় ও প্রশিক্ষণের উপর জোর বাড়ানো হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশকর্মীদের জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনার এই উদ্যোগকে অনেকেই আধুনিক ও সক্রিয় পুলিশ প্রশাসন গড়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। মাঠে নেমে কসরত করা পুলিশ সদস্যদের ছবি সাধারণ মানুষের কাছেও নতুন বার্তা দিচ্ছে শুধু অফিস নয়, ফিটনেসেও জোর দিচ্ছে বাহিনী।অন্যদিকে, বিরোধীদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র শরীরচর্চা বাড়ালেই পুলিশের সব সমস্যা মিটবে না। পুলিশ বাহিনীর উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক চাপ, দীর্ঘ ডিউটি এবং অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তবে সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ মনে করছে, ফিট ও দ্রুতগতির পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমনে আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ, দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি বাড়াতে এই ধরনের কঠোর রুটিন ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। পুলিশকর্মীদের কাজ অন্য অনেক চাকরির থেকে আলাদা। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তাঁদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয়। কখনও তীব্র গরম, কখনও বৃষ্টি, আবার কখনও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তাই শরীর সুস্থ ও ফিট না থাকলে এই কঠিন দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে তাঁদের শরীর শক্ত থাকবে, ক্লান্তি কম হবে এবং দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষমতাও বাড়বে। এতে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যই ভালো থাকবে না, কাজের গতিও বাড়বে। এছাড়া ফিট পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলাদা একটা ভরসা তৈরি করে। দ্রুত দৌড়ে অপরাধী ধরতে হোক বা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হোক সুস্থ ও সতেজ পুলিশকর্মীরা অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবেন। নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপও কমায়, ফলে কাজের সময় রাগ বা বিরক্তিও কম হতে পারে। তাই অনেকেই মনে করছেন, পুলিশের জন্য এই নতুন ফিটনেস রুটিন ভবিষ্যতে বাহিনীকে আরও দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলতে পারে।
