সোমবার অসম বিধানসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দিয়ে ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম বিল ২০২৬’ উত্থাপন করল হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার। বহুবিবাহে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন একাধিক কড়া বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে। আর এই পদক্ষেপ ঘিরেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
অসমের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা বিধানসভায় বিলটি উত্থাপন করেন। সরকারের দাবি, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই এক আইন কার্যকর করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে বিজেপি সরকার। বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক, বহুবিবাহের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রাখা হয়েছে কঠোর শাস্তির বিধানও। এছাড়াও বিয়ের ন্যূনতম বয়স পুরুষদের জন্য ২১ এবং নারীদের জন্য ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কন্যাসন্তানদের সম্পত্তিতে সমান অধিকারের কথাও উল্লেখ রয়েছে বিলে।
তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে নতুন নিয়ম। বিল অনুযায়ী, কোনো যুগল লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে ৬০ দিনের মধ্যে সেই সম্পর্ক সরকারিভাবে নিবন্ধন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন না করলে জরিমানা, এমনকি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এই নিয়ম নারীদের আইনি সুরক্ষা দেবে এবং সন্তান ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে শোষণ এবং প্রতারণা কমাতেও সাহায্য করবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায় এবং ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাগুলো এই আইনের বাইরে থাকবে। ধর্মীয় আচার বা রীতিনীতিতেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে অসম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই বিলকে “নারীর মর্যাদা রক্ষার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, বহুবিবাহ বহু ক্ষেত্রে নারীদের শোষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সমাজে বৈষম্য তৈরি করে। আর এই আবহেই বাংলায় শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড ইস্যু বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হতে পারে। কারণ এর আগেই রাজ্যে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার ইউসিসি এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
তাহলে কি অসমের পর এবার বাংলাতেও আসছে ইউসিসি বিল? এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
