"‘Today, both Mamata and I are destitute!’ — Abhaya’s mother posts an explosive message after concluding a meeting with Suvendu at Nabanna."

“‘আজ আমি আর মমতা দুজনেই সর্বহারা!’ নবান্নে শুভেন্দুর সাথে বৈঠক সেরে বিস্ফোরক পোস্ট অভয়ার মায়ের !

“আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা। আমি আমার একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি… আর উনি ওনার চোদ্দ তলার গদি হারিয়েছেন!”—নবান্নের ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষ করে এই বিস্ফোরক ও বুক কাঁপানো কথাগুলো লিখলেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির নবনিযুক্ত বিজেপি বিধায়িকা রত্না দেবনাথ! রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর খবর আর কিছুই হতে পারে না। ক্ষমতা বদলের পর খাস নবান্নে দাঁড়িয়ে কীভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুরো টিমকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিলেন অভয়ার মা? নতুন সরকারই বা আরজি করের সুবিচারের জন্য কী মেগা অ্যাকশন নিচ্ছে? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন
মনে করে দেখুন সেই ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের অভিশপ্ত রাতের কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার কীভাবে আরজি করের নৃশংস ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। প্রমাণ লোপাট থেকে শুরু করে অপরাধীদের আড়াল করা—কী করেনি পিসি-ভাইপোর কাটমানি সরকার আর তাদের অনুগত পুলিশ প্রশাসন! রত্না দেবনাথ যখন বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ান, তখন তৃণমূলের আইটি সেল আর নেতারা তাঁকে কম কটাক্ষ ও অপমান করেনি। কিন্তু সততার শক্তির কাছে যে অহংকারের পতন নিশ্চিত, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আজ সগৌরবে বিধানসভায় পা রেখেছেন রত্না দেবী।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর সোশ্যালে রত্না দেবী লিখেছেন—”আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী। সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।” এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন—”অপেক্ষা করুন উনি, ওনার অপরাধী টিম, সবার আরও করুণ পরিণতি দেখতে পাবেন। আমার পরিচয় আমি ডক্টর দেবনাথের গর্বিত মা।” তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রায় ২৮ হাজার ৮৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে রত্না দেবনাথ আজ প্রমাণ করে দিয়েছেন, বাংলার মানুষ এই লড়াইয়ে তাঁর পাশেই ছিলেন।

আর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই আরজি কর কাণ্ডে শুরু হয়ে গেছে আসল ও নিশ্ছিদ্র সুবিচারের প্রক্রিয়া। ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শুভেন্দুজী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠন হতেই তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার কড়া শুনানি চলছে। ইতিপূর্বেই নতুন সরকারের নির্দেশে কলকাতা পুলিশের তিন বিতর্কিত আধিকারিক—বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে, যারা প্রতিটা চক্রান্তকারীর কলার ধরে টেনে আনবে।
ইতিমধ্যেই মূল অপরাধী সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কিন্তু শুভেন্দু সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—আসল রাঘববোয়াল ও চক্রান্তকারীদের জেলে না পোরা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। পিসি-ভাইপোর জমানায় যে নবান্ন ছিল দুর্নীতি আর অপরাধীদের বাঁচানোর আখড়া, আজ শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনে সেই নবান্নের ১৪ তলা থেকেই নির্যাতিতার পরিবারকে বুকে টেনে নিয়ে অপরাধমুক্ত ও ন্যায়পরায়ণ এক নতুন সোনার বাংলার সূচনা করা হলো।
আপনার কী মনে হয়? রত্না দেবনাথের এই বিস্ফোরক পোস্ট এবং শুভেন্দু সরকারের এই কড়া তদন্ত কি আসলেও আরজি করের মূল মাথাদের আসল শাস্তি দিতে পারবে? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *