No more repeating Mamata's mistakes! State Chief Minister Suvendu Adhikari issued a stern warning.

মমতার ভুল আর রিপিট নয়! একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

গত বছরের একটি ঘটনার শিক্ষা থেকেই এবার অনেক আগেই সতর্ক হয়ে গেল প্রশাসন। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মানেই হাজার হাজার মানুষের ভিড়, দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা এবং কড়া নিরাপত্তা। ২০২৫ সালে এই পরিস্থিতিতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বহু স্কুলপড়ুয়া। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবছর আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারি অনুষ্ঠানে কোনও শিশু বা পড়ুয়াকে আনা যাবে না। মমতার পড়া ভুল থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও পড়ে। বিরোধীরা সেই ঘটনাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারের ভাবমূর্তিও সুরক্ষিত থাকে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশাসনিক বাস্তববোধের পরিচয় হিসেবে দেখছেন। কারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মূলত রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষার অনুষ্ঠান। সেখানে ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা বা দাঁড় করিয়ে রাখা সবসময় নিরাপদ নয়। বিশেষ করে আগস্ট মাসের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।এই নির্দেশের মাধ্যমে সচিব ও জেলা প্রশাসনের ওপরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনও ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে এবং এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যাতে পরে বিপদের মুখে পড়তে হয়। অর্থাৎ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে শিশুদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার জন্য কোনও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ুক, তা সরকার চাইছে না। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির ওপর যে জোর দেওয়া হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি প্রতিফলন।তবে এর আরেকটি দিকও রয়েছে। বহু বছর ধরেই স্বাধীনতা দিবসের মতো অনুষ্ঠানে স্কুলপড়ুয়াদের অংশগ্রহণ একটি ঐতিহ্য। ফলে তাদের সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। ভবিষ্যতে হয়তো এমন বিকল্প ব্যবস্থা করা হতে পারে, যেখানে শিশুদের অংশগ্রহণ থাকবে, কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকবে না।

এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নির্দেশ নয়,বরং আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। ২০২৫ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক, সেটাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এতে যেমন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা রয়েছে, তেমনি প্রশাসনের প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতার বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *