রাজ্যের প্রতিটি দুস্থ ও যোগ্য মহিলার সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার এক ঐতিহাসিক ও কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংকল্পপত্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি হুবহু বজায় রেখে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৯ লক্ষেরও বেশি মহিলার হাতে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। তবে জুলাই মাসের কিস্তি দেওয়ার পর দেখা যায়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনের পাশাপাশি আরও ২৮ লক্ষ যোগ্য মহিলার নাম সাময়িকভাবে রিজেক্টেড বা বাদ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার এই মেগা প্রকল্পে বঞ্চনা ও অনিয়ম দূর করতে এবার সরাসরি প্রতিটি বিধানসভার বিধায়কদের মাঠে নেমে কাজ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবারের হাই-প্রোফাইল পর্যালোচনা বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরোধীদের কোনো জলঘোলা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কিছু অসাধু লোক বা সচ্ছল পরিবার— যাদের পারিবারিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি বা পরিবারে একাধিক পাকা ঘর রয়েছে— তাঁদের ভুল নাম এই তালিকায় ঢুকে পড়ায় প্রকৃত গরিব ও দুস্থ মহিলারা সাময়িকভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। এই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। বিধায়কদের স্বশরীরে এলাকা ঘুরে জনসংযোগ বাড়াতে হবে, অযোগ্যদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে এবং যেসব যোগ্য মহিলারা বাদ পড়েছেন, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পুনরায় জমা নেওয়ার সুব্যবস্থা করতে হবে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের জেলায় জেলায় বিডিও অফিস ও পুরসভাগুলোতে বাদ পড়া ২৮ লক্ষ পরিবারের জন্য বিশেষ রি-ভেরিফিকেশন ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য একটাই— রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের একটি টাকাও যেন কোনো অসৎ বা অযোগ্য ব্যক্তির পকেটে না যায়। স্বচ্ছতা বজায় রেখে শতভাগ যোগ্য উপভোক্তার হাতে প্রতি মাসে এই ৩০০০ টাকা তুলে দিতেই প্রশাসনের সাথে জনপ্রতিনিধিদের এমন নিবিড় সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। তো তোষণ ও দালালরাজের পুরনো সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়ে, রাজ্যের প্রতিটি মা-বোনের হাতে তাঁর প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ সত্যিই এক উন্নত, স্বনির্ভর ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
