Now, an FIR has been lodged against Mamata herself under non-bailable sections.

এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর! তোষনের রাজনীতি করতে গিয়ে একদলকে খুশি করাই কাল হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর !

 

নির্বাচন পরবর্তী বাংলায় তৃণমূলের জন্য আরও এক বিরাট ধাক্কা! এবার খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হলো গুরুতর অপরাধমূলক মামলা। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাও আবার সাধারণ কোনো ধারায় নয়, ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বা বিএনএস (BNS)-এর একাধিক জামিন অযোগ্য ও মারাত্মক ধারায় এই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যে নেত্রী এতদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিতেন, আজ তাঁর নিজের দেওয়া বক্তব্যই তাঁর জন্য মস্ত বড় আইনি কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মতলার সেই সভায় ঠিক কী বলেছিলেন তিনি? আর কোন কোন ধারায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে কোণঠাসা করার প্রস্তুতি শুরু হলো? কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল ধর্মতলায়?

এফআইআর-এর কপি থেকে জানা যাচ্ছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ মার্চ, ২০২৬। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূলের ‘ধরনা মঞ্চ’-এ একটি হাই-প্রোফাইল সভা ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় তুষার কান্তি দাস নামের এক ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর স্পষ্ট দাবি—ধর্মতলার সেই ধরনা মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করতে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে অত্যন্ত ‘বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক’ ভাষণ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যার জেরে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি আর তোষণের চেনা ছককে এবার আইনি নিয়মে বেঁধে ফেলেছে প্রশাসন। নতুন আইন অর্থাৎ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩’-এর অধীনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট ৩টি অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে: ১৯৬(১) ধারা: বিভিন্ন জাতি, ধর্ম বা গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা। ৩৫১(২) ধারা: অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, উস্কানি এবং সমাজকে অপরাধে প্ররোচিত করা। ৩৫২ ধারা: শান্তিভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অপমান বা প্ররোচনা দেওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে তৃণমূল সুপ্রিমোর আইনি অস্বস্তি আগামী দিনে বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

আইন যে এখন আর কারও পকেটের গোলাম নয়, তা নবান্নের ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। হেয়ার স্ট্রিট থানা ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরোদমে তদন্তে নেমে পড়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ সাব-ইন্সপেক্টর (SI) হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মেগা এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ মুখে কুলুপ এঁটেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাট বা তৃণমূল ভবনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। আসলে ক্ষমতার দম্ভ চলে যেতেই আইনি খাঁড়ার সামনে কীভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন, তা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না ঘাসফুল শিবিরের নেতারা।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে সস্তার রাজনীতি আর উস্কানিমূলক কথা বলে পার পাওয়ার দিন এবার শেষ। আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তাই আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো বাংলায়। উস্কানির রাজনীতি বন্ধ করে বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। ধর্মতলার সভায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই কড়া আইনি মামলা দায়ের হওয়া নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আপনার বক্তব্য অবশ্যই জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *