নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্পত্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তির নিরিখে দেশের অন্যতম কম সম্পত্তির অধিকারী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি ২৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৬১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
শুভেন্দু অধিকারীর নামে ১৪টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু সব অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট ব্যাঙ্ক আমানত মাত্র প্রায় ৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। তবে শুধু ব্যাঙ্কেই নয়, বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পেও বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)-এ রয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কিষাণ বিকাশ পত্রে রয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পোস্ট অফিসে জমা রয়েছে ৬০ হাজার ৫২৩ টাকা। এছাড়াও তাঁর নামে ৬টি এলআইসি পলিসি রয়েছে, যার মোট মূল্য ৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
এডিআরের তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম সম্পত্তির অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৩০ টাকা। এরপরের স্থানেই রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, যার মোট সম্পত্তি ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬৬৬ টাকা।
অন্যদিকে, সম্পত্তির নিরিখে দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১,৪১৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়, যার ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৬৪৮ কোটি টাকা। এরপরেই রয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খান্ডু, যার মোট সম্পত্তি ৩৩২ কোটি টাকা। যদিও এই সমস্ত তথ্য এডিআরের বিশ্লেষণ, যা সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, এগুলি সরকারি তদন্তের ফল নয়, বরং প্রার্থীদের নিজেরাই জমা দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হিসাব।
