তৃতীয় বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হলেন অমিতাভ চক্রবর্তী। একটানা তৃতীয় বারের নিযুক্তি ছাড়াও সাংগঠনিক বিষয়ে অমিতাভের উপরে আস্থা বৃদ্ধির আভাসও দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গত কয়েক বছর ধরে অমিতাভের পাশাপাশি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো দেখভাল করছিলেন সতীশ ঢোন্ড। তাঁকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে দিয়ে এ রাজ্যের সংগঠনের পূর্ণ দায়িত্ব অমিতাভকেই দিল দিল্লি।
বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্তরের এবং বিভিন্ন রাজ্যের সংগঠন সম্পাদকদের নতুন তালিকা অনুমোদিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের তরফ থেকে সে তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে যে বিএল সন্তোষই থাকছেন, তা সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন কমিটি ঘোষিত হওয়ার সময়েই জানা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার ঘোষিত হল সন্তোষের সহকারীদের নাম। জানানো হল বিভিন্ন রাজ্যের সংগঠন সম্পাদকদের নামও।
সার্বিক ভাবে ২২ জন নেতার এই নিয়োগ নিয়ে নীতিন নবীন বলেছেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী আপনারা এই দায়িত্ব সফল ভাবে পূরণ করবেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন।’ অমিতাভ ফের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘অমিতাভ চক্রবর্তীর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সুদক্ষ নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী, গতিশীল হবে, এই প্রত্যাশা রাখি।’ রাজ্য বিজেপির অভিজ্ঞ এক নেতার কথায়, ‘সঙ্ঘে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যেই থেকেই কোনও নেতাকে সাধারণ সম্পাদক , যুগ্ম সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়। রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে এই রীতি বহু দশক ধরে চালু। অমিতাভর আগেও যাঁরা এই দায়িত্ব সামলেছেন তাঁরাও অতীতে সঙ্ঘে কাজ করেছেন।’
২০২১ -এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে সতীশ ধোন্দ যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই দায়িত্ব সৌদানকে দেওয়া হয়েছে। সৌদান ১৯৮০ র দশক জুড়ে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, বিদিশা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সঙ্ঘের নগর প্রচারক, তহসিল প্রচারক, জেলা প্রচারকের কাজ করেছেন। নয়ের দশেক এই নেতা বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হন। মধ্যপ্রদেশে নয়ের দশের মাঝামাঝি পর্যন্ত কাজ করার পরে তাঁকে ছত্তিসগড়ের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিজেপি সংগঠনে ক্রমেই সৌদানের উত্থান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ছত্তিসগড়, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০৭ থেকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মধ্যপ্রদেশের এই নেতা। হিমাচল প্রদেশে গত বিধানসভা ভোটের ইন–চার্জ ছিলেন। সতীশকে মহারাষ্ট্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে
অমিতাভের চেয়েও দীর্ঘ মেয়াদে সংগঠন সম্পাদক পদে থাকার নজির অবশ্য এ রাজ্যে রয়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা ১৩ বছর সংগঠন সম্পাদক পদে ছিলেন দেবব্রত সিংহ। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটানা ছিলেন অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তার পরে সুব্রত চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বছর চারেক।