পশ্চিমবঙ্গের ভোট ময়দান এখন উত্তপ্ত। প্রথম দফার ভোট শেষ, আগামীকাল দ্বিতীয় দফা। আর তার আগেই বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি অডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলা ভাষায় দেওয়া সেই বার্তায় মোদীর আহ্বান, “গণতন্ত্রের মন্দিরে বিজয়পতাকা ওড়ানোর এক অসাধারণ সুযোগ এসেছে।” শুধু অডিয়ো বার্তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরাসরি বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, এই ভোটই হতে পারে বিজেপির বিজয়ের সুবর্ণ সুযোগ।
প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতা অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রথম দফায় হওয়া আসনগুলির মধ্যে ১০০-র বেশি আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। দলের হিসেব বলছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাও তারা পেয়ে যাবে। ওদিকে শেষ প্রচারে মোদীও বলে গিয়েছেন, চার মের পর সরকার গঠনের জন্য আবার বাংলায় আসবেন তিনি। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শেষ হওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বঙ্গবাসীর জন্য বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘’পশ্চিমবঙ্গে আমার প্রিয় পরিবারবর্গ, গণতন্ত্রের এই উৎসব আপনাদের সামনে বিজেপির বিজয়ের ধ্বজা ওড়ানোর এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। আমি নিশ্চিত যে ২৯ এপ্রিল, আপনারা ভোটদানের এক নতুন রেকর্ড গড়বেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, আমি একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে আমার মনের ভাব ব্যক্ত করেছি…” নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে দেওয়া অডিয়ো বার্তা পোস্ট করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের আত্মবিশ্বাসী বার্তা সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। এতে একদিকে কর্মীদের মনোবল বাড়ে, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভোটারদের ওপরও মানসিক চাপ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তিনি ৪ মে-র পর আবার বাংলায় আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ তাঁর দাবি, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁকে আবার আসতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট বিজেপি শুধু লড়াই করছে না, তারা জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। একদিকে বিজেপির আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও নিজেদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম দফার ভোটের ফলাফল পুরো চিত্র দেয় না। দ্বিতীয় দফা এবং পরবর্তী পর্যায়গুলোই নির্ধারণ করবে আসল লড়াই। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ভোটারদের বেশি সংখ্যায় ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৯ এপ্রিল নতুন ভোটদানের রেকর্ড গড়তে পারে বাংলা। এই আহ্বান নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার বার্তা বহন করে। এখন নজর ৪ মে র দিকে। যেদিন প্রকাশ পাবে ভোটের ফলাফল। সেদিনই জানা যাবে, বদল হচ্ছে কি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ, নাকি আগের মতোই থাকবে ক্ষমতার ভারসাম্য। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই অডিয়ো বার্তা রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। একদিকে আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা, এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে বাংলার ভবিষ্যৎ। ৪ মে-ই দেবে সেই চূড়ান্ত উত্তর।
