কটকে নিষিদ্ধ হতে চলেছে আরএসএস! সংঘের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়ে মারাত্মক ইঙ্গিত প্রিয়াঙ্ক খাড়গের!

স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তে দেশপ্রেম ও দেশের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে তুঙ্গে উঠল কংগ্রেস ও আরএসএস-এর সংঘাত। কর্নাটকে কি অবশেষে নিষিদ্ধ হতে চলেছে আরএসএস? এই প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ঘোরাফেরা করছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পুত্র তথা কর্নাটকের আইটি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই সংঘ পরিবারকে চরম চ্যালেঞ্জে ছুড়ে দিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
কর্নাটকে বেশ কিছুদিন ধরেই আরএসএস-এর কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরব হচ্ছিল একাংশ। তবে এবার সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণে নেমে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সংঘের ইতিহাস নিয়ে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস-এর ভূমিকা ঠিক কী ছিল? আপনারা কোন লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন?” এরপরই অত্যন্ত আগ্রাসী ভঙ্গিতে তিনি চ্যালেঞ্জ জানান, “আমি নিজে এমন ৫০০ জন কংগ্রেস নেতার নাম তুলে ধরতে পারব, যাঁরা দেশের জন্য জীবন বলিদান দিয়েছেন। আরএসএস কী তাদের ইতিহাস থেকে এমন ৫০ জন শহিদের তালিকা দিতে পারবে?” খাড়গের এই সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এর পাশাপাশি, কর্নাটকে সরাসরি আরএসএস-কে ব্যান করা সম্ভব কি না—এই জল্পনার উত্তর দিতে গিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্ক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইচ্ছে থাকলেও আইনি কাঠামোর দরুন আরএসএস-কে সরাসরি ব্যান বা নিষিদ্ধ করা বেশ কঠিন। কারণ, আরএসএস-এর কোনো আইনি রেজিস্ট্রেশনই নেই! প্রিয়াঙ্ক খোঁচা দিয়ে বলেন, “কাউকে তো তখনই নিষিদ্ধ করা যায়, যখন তার কোনো সরকারি খাতায় নথিভুক্ত অস্তিত্ব থাকে। যেহেতু ওদের কোনো রেজিস্ট্রেশনই নেই, তাই ব্যান করারও কোনো সরাসরি জায়গা নেই।”
তবে সরাসরি নিষিদ্ধ না করতে পারলেও কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার ঘুরপথে সংঘের মূল কর্মকাণ্ডের ওপর লাগাম টানার এক মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছে। সূত্রের খবর, সিদ্দারামাইয়া সরকার ‘সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬’ নামে এক বিশেষ বিল আনতে চলেছে। এই প্রস্তাবিত আইনে অত্যন্ত কড়াকড়ি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো অসংগঠিত বা আনরেজিস্টার্ড সংস্থা public space অর্থাৎ সর্বসাধারণের স্থান বা কোনো সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মসূচি বা জমায়েত পরিচালনা করতে পারবে না। যেকোনো ব্যক্তিগত সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে সরকারি কোনো সম্পত্তিতে কর্মসূচি করতে হলে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের মূল লক্ষ্যই হলো আরএসএস-এর দৈনিক বা সাপ্তাহিক ‘শাখা’ কর্মসূচিগুলি বন্ধ করা। কারণ সচরাচর সংঘের শাখা, কসরত বা কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়, কলেজের মাঠ কিংবা সরকারি মন্দির চত্বরে। নয়া বিল পাস হলে সরকারি জমিতে সংঘের শাখা চালানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে। যদিও কোনো বিশেষ সংস্থাকে কোণঠাসা করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই আইন আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতা দিবসের আবহে কর্নাটকের বুক থেকে প্রিয়াঙ্ক খাড়গের এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজপথ থেকে আইনসভা—রাজনৈতিক পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *