The historic ‘Annapurna Yojana’ is being launched at the hands of Chief Minister Suvendu Adhikari.

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’

রাজ্যের মা-বোনেদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের সামাজিক ক্ষমতায়নের পথকে আরও সুগম করতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সম্ভাব্য বুধবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক রাজকীয় মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করতে চলেছেন বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া পবিত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এই মেগা প্রকল্প চালু করাকে রাজ্যের নারী কল্যাণের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক দিক হলো, এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দুর্নীতির ছায়া না রেখে, প্রযুক্তির সাহায্যে স্বচ্ছভাবে এই বিপুল পরিমাণ উপভোক্তার কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এই রেকর্ড বাংলার নারী সমাজের আত্মবিশ্বাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২ হাজার মহিলার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বেশ কয়েকজন মায়ের হাতে প্রতীকীভাবে এই যোজনার অর্থ তুলে দিয়ে এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করবেন। রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

এই অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাওয়ার ফলে মহিলারা তাঁদের দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নিজেদের মতো করে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় কিংবা ছোট কোনো ব্যবসার কথাও স্বাধীনভাবে ভাবতে পারবেন। প্রশাসনিক স্তরে যাতে টাকা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে কোনও ধরণের কারিগরি সমস্যা বা ব্যাঙ্কিং জটিলতা তৈরি না হয়, তার জন্য অর্থ দফতর ও ব্যাঙ্কগুলির সাথে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক সেরে ফেলেছে প্রশাসন। বুধবারের এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যাতায়াত— সমস্ত ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, অন্নপূর্ণা যোজনার এই আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ সামনে আসতেই রাজ্যের কোটি কোটি মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এই রাজকীয় মঞ্চ থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে নারী কল্যাণের এক নতুন ও স্বনির্ভর অধ্যায়, যা বাংলার প্রতিটি ঘরের মা-বোনেদের মুখে স্থায়ী হাসি ফোটাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *