বিশেষভাবে সক্ষম প্রতিবন্ধী ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম করতে এবং স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সমস্যা মেটাতে এক অত্যন্ত মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া বা দৈহিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ছাত্রীদের বিনামূল্যে ইলেকট্রিক ট্রাই-সাইকেল বা ই-ট্রাইসাইকেল দেওয়ার বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আপাতত জেলা ভিত্তিক বা বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী এই সুবিধা প্রদান করা হবে, যার ফলে প্রতি চাকাতেই ঘুরবে এই সমস্ত পড়ুয়াদের স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার স্বপ্ন।
প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো, ই-ট্রাইসাইকেল বন্টনের এই বিশেষ মেগা উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায় হিসেবে কানপুর শহরে ২০০টি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী অন্তত ২০টি করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-ট্রাইসাইকেল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ই-ট্রাইসাইকেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক ট্রাই-সাইকেল ব্যবহারের ফলে সেরিব্রাল পলসি, হিমোফিলিয়া কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
তবে রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত ছাত্রীরা কিন্তু এই সুবিধা পাবে না। এই ই-ট্রাইসাইকেল পাওয়ার জন্য কিছু বিশেষ শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারী ছাত্রীর বয়স অবশ্যই ১৬ বছর বা তার বেশি হতে হবে এবং তাঁকে সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত ন্যূনতম ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক অক্ষমতার সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, ছাত্রীটিকে অবশ্যই বর্তমানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত থাকতে হবে এবং তাঁর পরিবার যদি বার্ষিক আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স দেয়, তবে তিনি এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর সরকার স্বীকৃত পরিচয়পত্র, সঠিক মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে হবে। তো শারীরিকভাবে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা ছাত্রীদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে ও শিক্ষা চালিয়ে যেতে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
