মালদহের মোথাবাড়ি! শান্ত জনপদ আজ তপ্ত রাজনীতির রণাঙ্গন। আর সেই উত্তাপ সরাসরি পৌঁছে গেল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ পর্যন্ত। তৃণমূল সরকারকে এবার আর রেয়াত না করে, বরং চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি SIR-এ নাম বাদ যাওয়ার কাজে যুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রতিবাদ জানানোর নামে রাতভর আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ জনতা। আর এই ঘটনার জেরেই ভোটের আগে তোলপাড় হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। এ বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি-ও। আর এবার নরেন্দ্র মোদীর মুখে এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা শোনা গেল।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, মালদহে যে ঘটনা ঘটেছে তা নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজের নিদর্শন। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়েই গোটা দেশ দেখেছে কীভাবে বিচারকদের হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। বাংলায় তৃণমূলের আমলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির শবযাত্রা বেরিয়েছে বলেও এদিন দাবি করেছেন তিনি। নমো আরও বলেন, টানা ১৫ বছর ধরে তৃণমূল বাংলার মানুষের পয়সা লুঠ করেছে। আর এবার পালা সকল দুর্নীতিবাজদের টাকা ফেরত দেওয়ার।
বাংলার পরিবর্তনের সূচনা ব্রিগেড থেকেই হয়ে গিয়েছে। যদিও মানুষের সেই ভিড় দেখে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই কোচবিহারে ব্রিগেডের থেকেও বেশি ভিড় হয়েছে। এবার তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তাই বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, সরকার পাল্টানো দরকার। তাই বিজেপি এখানে সরকার গড়বে এবং বাংলার নতুন দিশা হয়ে উঠবে।
এর পাশাপাশি তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চায় বলেও কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে কমিশন নিরপেক্ষ ভোট করাতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মোদী। তবে, এদিন সবচেয়ে কড়া আক্রমণ ছিল মোথাবাড়ির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বাংলার পুলিশ এখন তৃণমূলের সেবক হিসেবে কাজ করছে।” সেই সঙ্গে মোথাবাড়িতে কেন অভিযুক্তরা ধরা পড়ছে না, আর কেন প্রতিবাদীরা জেল খাটছে—সেই প্রশ্ন তুলেও তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। যদিও মালদহ বরাবরই বাংলার রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। লোকসভা হোক, বা বিধানসভা—মালদহের ভোটব্যাঙ্ক কব্জা করা যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। আর তাই মোথাবাড়ির ঘটনাকে সামনে রেখে মোদী গ্রামীণ বাংলার মানুষের মনে ঢুকতে চাইছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই দেখাতে চাইছেন যে, বিজেপি-ই একমাত্র বিকল্প যারা শাসকের রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না।
অন্যদিকে, ক্ষমতায় আসার জন্য শাসক দলের বিরুদ্ধে যে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে গেরুয়া শিবির, তা তাদের নানা গতিবিধির দিকে নজর রাখলেই বোঝা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলায় এসে চার্জশিট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে বিএসএফকে জমি না দেওয়া থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধ প্রবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে এও জানিয়েছিলেন যে, দেশের ১৪টি রাজ্যে SIR হলেও শুধুমাত্র বাংলাতেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আধিকারিকদের। তবে, আপাতত শাহের পরে মোদীর মোথাবাড়ির ঘটনায় রাজ্য সরকারকে এহেন আক্রমণ বাংলার রাজনীতিতে নতুন হাওয়া দিচ্ছে। যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি আসলে বিভাজনের রাজনীতি করছে। কিন্তু রাজনীতির বাইরেও একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মোথাবাড়ির মানুষ কি আদৌ সুবিচার পাবেন? নাকি রাজনীতির এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ মানুষের আর্তনাদ চাপা পড়ে যাবে? উত্তর সকলেরই অজানা!
