দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ও পৈশাচিক ঘটনার পর, নির্যাতিতার অসহায় পরিবারের কাছে আজ এক আলোকবর্তিকা এবং একমাত্র পরম ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের কোমর ভেঙে দিতে তিনি যেমন বিদ্যুৎগতিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, ঠিক তেমনই এক অভিভাবকের মতো পরম মমতায় আগলে রেখেছেন শোকার্ত পরিবারটিকে। মঙ্গলবার বারুইপুর এসপি অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক বৈঠকে মিলিত হন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষমতার অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে, একজন প্রকৃত জননেতার মতো তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দিতে সশরীরে হাজির হয়েছেন, তা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের পর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, সমস্ত কিছু হারিয়েও এই অসহায় পরিবারটি আজ তাঁর ওপর যে অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্তরিক ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মনের সমস্ত জমানো কথা ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্বয়ং নির্যাতিতার বাবা ও কাকা। অত্যন্ত আবেগপূর্ণ গলায় নির্যাতিতার পিতা জানান যে, তাঁরা যে চরম আশা আর বুকভরা ভরসা নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কাছে গিয়েছিলেন, জননেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের সেই সমস্ত আশা পূরণ করার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ক্ষোভ আর চোখের জল মেশানো গলায় বাবা যখন বলেন যে, তিনি শুধু তাঁর ফুটফুটে সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি চান, তখন মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তাঁর পিঠে হাত দিয়ে অভয়বাণী দিয়ে বলেন, ‘তুমি শুধু দেখতে থাকো, আমি এদের জন্য কী করতে পারি।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই একটিমাত্র বাক্যেই যেন বেঁচে থাকার নতুন শক্তি খুঁজে পেয়েছে এই পরিবারটি। নির্যাতিতার পিতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দাদার ওপর এবং বর্তমান প্রশাসনের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি, বিগত আমলের অপশাসনের চেনা ছক ভেঙে বর্তমান পুলিশ ও প্রশাসন যেভাবে সারাদিন তাঁদের পাশে থেকে ছায়ার মতো সাহায্য করেছে, তার জন্য শুভেন্দু সরকারের আইনশৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত নির্যাতিতার কাকাবাবুও সংবাদমাধ্যমের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর এই দেবতুল্য ও সংবেদনশীল রূপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতম সাজা দেওয়ার দাবি তাঁরা মুখে উচ্চারণ করার আগেই, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকে সেই কথা জোর দিয়ে বলেছেন। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের কাছে নিজে জানতে চান যে, সুবিচার ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো অভাব-অভিযোগ বা দাবি আছে কি না। পরিবারের পক্ষ থেকে যখন আবেদন করা হয় যে, ভবিষ্যতে যেন বাংলার আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয় এবং এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সূর্যপুর বাজারে একটি নতুন পুলিশ আউটপোস্ট ও অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সরকারি সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দ্রুত মেরামত করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে প্রতিটি দাবিতে তৎক্ষণাৎ সম্মতি জানান।
এমনকি তদন্তের স্বার্থে পুলিশের কোনো আধিকারিকের বিন্দুমাত্র গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলে, তাকেও রেয়াত না করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তোষণ আর অপরাধীদের বাঁচানোর অন্ধকার সংস্কৃতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলে, বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষায় শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে আজ এক অতন্দ্র প্রহরীর মতো সশরীরে ময়দানে নেমেছেন, তা প্রতিটা নাগরিকের মনে এক নতুন ও নিরাপদ ভোরের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
