ওরা বাংলা লুঠ করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব! রামলীলা ময়দান থেকে বিজেপি হঠানোর ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মেগাসভা থেকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এসআইআর নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর মাধ্যমে বাংলাকে লুঠ করা হয়েছে। আর সেই কারণেই এবার দিল্লি থেকে বিজেপিকে সরানোর লড়াই হবে। মমতার বার্তা, প্রাণ গেলেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না।

রবিবার রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, বাংলার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভোটের অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গ।

মমতা বলেন, বিরোধীদের আন্দোলনের কোনও জাতি বা ধর্মের রং নেই। সকলকে এক মঞ্চে এসে গণতন্ত্র ও দেশকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি সিজেপির মতো বিভিন্ন গোষ্ঠীকেও এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী।

এসআইআর প্রসঙ্গে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, বাংলায় ভোটের আগে প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্য ছিল যে কোনওভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করা। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোটের গণনা ব্যবস্থাতেও কারচুপি করা হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে হাইজ্যাক করা হয়েছে।

মমতার এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির তরফে এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। ফলে এসআইআর এবং ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও নিশানা করেন মমতা। তাঁকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, কবে তিনি ভ্যানিশ হবেন। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে চাকরি, মানুষের জীবন এবং ভোটাধিকার নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করেন তিনি। ধর্মীয় স্থান নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি পুলিশকে দিয়ে দলের কাজ করাচ্ছে। তবে পুলিশের কর্মীদেরও দেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের পরিস্থিতির কথাও বলেন তিনি। মমতার দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুলিশকর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে কাজ করছেন।

এরপর নিজের পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার দাবি, তাঁকে প্রায় গৃহবন্দি করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এভাবে তাঁকে বা সাধারণ মানুষকে চুপ করিয়ে রাখা সম্ভব নয়। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দেন তিনি।

রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে মমতার বক্তব্যে উঠে আসে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক। তাঁর দাবি, মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন।

সবশেষে বিচার ব্যবস্থার কাছেও আবেদন জানান মমতা। তাঁর বক্তব্য, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ বিচার চাইছেন এবং তাঁদের চোখের জল মোছানোর দায়িত্বও রয়েছে। ফলে দিল্লির মঞ্চ থেকে মমতার এই বক্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্য ও বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের সমীকরণ আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *