ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। আর তাই এখন চলছে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেই সঙ্গে দল বদলের হিড়িক তো চলছে-ই। আর এই প্রাক-ভোট আবহেই জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বদলাতে শুরু করেছে। দিন কয়েক আগেই ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বেলিয়াবেড়া অঞ্চলে তৃণমূল ছেড়ে প্রায় ১০০টি সংখ্যালঘু পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-তে যোগদান করেছে। যা বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ভোট প্রচারে রাস্তায় নেমেছিলেন বিজেপি-র গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের প্রার্থী রাজেশ মাহাতো। এদিন তিনি সকাল থেকেই প্রচার চালাচ্ছিলেন। এমন সময় তার কাছে খবর আসে, বেলিয়াবেড়া গ্রামের বহু সংখ্যালঘু পরিবার এক প্রকার বীতশ্রদ্ধ হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এই খবর পেয়েই দেরী না করে তিনি দ্রুত ওই গ্রামে পৌঁছে যান এবং নিজের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা ওই পরিবারগুলির হাতে তিনি তুলে দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
না, আসন্ন নির্বাচনের আগে নিজের প্রচারে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চান না এই বিজেপি প্রার্থী। সে কারণেই নিজে গাড়ি চালিয়ে এলাকার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পদ্ম শিবিরের এই প্রার্থী। নিজেই করছেন সকল জনসংযোগ। তবে, এদিন এই বিপুল সংখ্যক মানুষ গেরুয়া শিবিরে যোগদান করতেই নিজেদের শক্তি আরও কিছুটা বৃদ্ধির জোর পেয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি এলাকার বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, তৃণমূলের ওপর থেকে সাধারণ মানুষরা নিজেদের আস্থা হারাচ্ছেন। তাই তারা এখন বিজেপির উন্নয়নমূলক চিন্তাধারার উপর ভরসা রাখছেন। গোপীবল্লভপুরে বিজেপির হাতকে এই যোগদান আরও কিছুটা শক্ত করল বলেও দলীয় নেতৃত্বদের অনেকেই মনে করছেন। অন্যদিকে, এমন ঘটনায় কিছুটা হলেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে তৃণমূল শিবিরে। তবে, এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি শাসক দলের তরফে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তবে কি এবারের নির্বাচনে এক বড়সড় পরিবর্তন দেখতে চলেছে বাংলা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা বা নিজেদের অনুগামীদের রক্ষা করার জন্যই এমন দল বদলের ঘটনা ঘটে। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের আভাস পেলে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাও তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া, এই সময়ে সর্বভারতীয় দল হিসেবে বিজেপির শক্তিশালী পরিকাঠামো এবং ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনেককে আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে যারা মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চললে নিজ এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, তারা বিজেপি-তে যোগদানকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ, দলবদল গণতন্ত্রের একটি অংশ হলেও এর পেছনে জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় কৌশল বেশিরভাগক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। যা ভোটারদের কাছে কখনও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’, আবার কখনও ‘নতুন শুরুর’ প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত জনমতই ঠিক করে দেয় যে, এই দলবদল রাজনৈতিকভাবে কতটা সফল বা সার্থক হলো। কারণ রাজনীতির এই প্রবাহমানতায় মানুষের আস্থা অর্জনই এখন সব দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
