Yogi Government's Massive Initiative for Hindus

হিন্দুদের জন্য বিরাট উদ্যোগ যোগী সরকারের… বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তাদের এবার উত্তরপ্রদেশে জায়গা দিলেন যোগী আদিত্যনাথ

একসময় নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল ৩৩১টি পরিবার। আজ তারা নতুন করে জীবন শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে। কীভাবে সম্ভব হল এই পুনর্বাসন? কী কী সুবিধা পেল তারা? উত্তরপ্রদেশ সরকারের উদ্যোগে এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে, বাংলাদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৩১টি হিন্দু পরিবারকে লখিমপুর-খেরি জেলায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, জীবিকার জন্য জমি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন তারা। লখিমপুর খেরি জেলার বিভিন্ন তহসিলে এই পরিবারগুলিকে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ধৌরাহরা তহসিলের সুজনপুর গ্রামে ৯৭টি পরিবারকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদী তহসিলের মোহনপুর গ্রান্টে ৪১টি পরিবার, মিয়াঁপুর গ্রামে সর্বাধিক ১৫৬টি পরিবার
এবং গোলা তহসিলের গ্রান্ট নং ৩-এ ৩৭টি পরিবারকে জায়গা দিয়েছে যোগী সরকার। এই পুনর্বাসন বহু বছর আগে সম্পন্ন হলেও, এখন তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে নতুন জীবন গড়ে তুলেছে। পুনর্বাসনের পাশাপাশি, এই পরিবারগুলির জীবিকার কথাও ভেবেছে প্রশাসন। গোলা তহসিলে পরিবার প্রতি গড়ে ৩ একর জমি, সুজনপুরে ১.৬২০ হেক্টর থেকে ০.৬০৭ হেক্টর পর্যন্ত জমি, মোহনপুরে ৩, ৫ এবং ৭ একর করে জমি বিভিন্ন পরিবারকে, মিয়াঁপুরে পরিবার প্রতি প্রায় ৪.৭৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিবারকে। এই জমিতেই এখন চাষাবাদ করে নিজেদের জীবনধারণ করছেন তারা।

শুধু জমি নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন এই পরিবারগুলি। যোগ্যতার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর কৃষক দুর্ঘটনা কল্যাণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ সম্মান নিধি, উজ্জ্বলা প্রকল্প, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, প্রধানমন্ত্রীর গৃহায়ন প্রকল্প, বিধবা ও বার্ধক্য পেনশন, সুকন্যা সমৃদ্ধি প্রকল্প এবং মুখ্যমন্ত্রীর গণবিবাহ প্রকল্পের মতো প্রকল্পগুলির অধীনে সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও রেশন, টিকাদান, এমএনআরইজিএ, মিড-ডে মিল, স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমে উন্নত হয়েছে মৌলিক পরিষেবা। এই উদ্যোগ শুধু পুনর্বাসন নয়, বরং নতুন করে জীবন গড়ার এক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে এই পরিবারগুলির জন্য।

সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে মানবিক ও উন্নয়নমুখী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে শুধু আশ্রয় নয়, চাষের জমি ও জীবিকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা-এর মতো প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় তাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে। এটি পুনর্বাসনের একটি সফল মডেল, যেখানে শুধু পুনর্বাসন নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষক ভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন, এই পুনর্বাসন কি ধর্মভিত্তিক নির্বাচিত উদ্যোগ? কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মনে করছেন, বিশেষ করে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির প্রেক্ষিতে। এই উদ্যোগকে একদিকে যেমন মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নের উদাহরণ বলা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রেও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *