“A Change of Tune Under Suvendu’s Pressure? Mamata Takes a Major Decision to Restore Hindu Rights!

“শুভেন্দুর চাপে সুর বদল? হিন্দু অধিকার ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত মমতার!”

ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় এলে যে আসলেও ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে, তার সবথেকে বড় প্রমাণ মিলল বাংলায়। রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ও বিরাট রদবদল ঘটাল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার সেই চরম তোষণের রাজনীতিকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে, সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে ৬৬টি নতুন ওবিসি শ্রেণীর বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। আর এই নতুন তালিকায় জায়গা পেয়েছে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ৬২টি হিন্দু সম্প্রদায়!

ফিরে দেখা যাক ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায়। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং নিজেদের মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করতে তৎকালীন তৃণমূল সরকার ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি মর্যাদা দিয়েছিল। অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হলো, সেই ৭৭টির মধ্যে ৭৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত! ভারতীয় সংবিধান যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সম্পূর্ণ বিরোধী, সেখানে পিসি-ভাইপো জুটি ক্ষমতার লোভে আইনি রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হিন্দুদের হকের অধিকার কেড়ে বিলিয়ে দিয়েছিল এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হাতে। যার খেসারত দিতে হয়েছিল বাংলার হাজার হাজার সাধারণ হিন্দু পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের। তৃণমূলের এই বেআইনি ওবিসি সার্টিফিকেট বিলির কারণে জল গড়িয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। যার জেরে রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের রেজাল্ট থেকে শুরু করে সরকারি চাকরি—সবকিছুতেই তৈরি হয়েছিল চরম আইনি জটিলতা। মেধা থাকা সত্ত্বেও ওবিসি সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে চোখের জল ফেলতে হয়েছিল বাংলার কৈবর্ত, তেলি, কামার, কুমার বা মালাকারদের মতো যোগ্য হিন্দু জাতি-উপজাতিদের। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই সেই দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটল।

নতুন সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর এবার থেকে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা এবং সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধায় অগ্রাধিকার পাবেন বাংলার অনগ্রসর হিন্দু ভাই-বোনেরা। বিজেপি নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন— “আমরা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, ডক্টর বি আর আম্বেদকরের দেখানো পথে সামাজিক ও শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতার ভিত্তিতেই সংরক্ষণ দিতে দায়বদ্ধ।” নতুন এই তালিকায় মাত্র ৪টি মুসলিম সম্প্রদায় জায়গা পেয়েছে, যারা আসলেও সামাজিক দিক থেকে অনগ্রসর। তোষণের রাজনীতি যে এবার বাংলা থেকে চিরতরে বিদায় নিচ্ছে, এটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এদিকে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দেখেই বুক কাঁপতে শুরু করেছে বিদায়ী শাসকদল তৃণমূলের। সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার সস্তা দোহাই দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অলীক অভিযোগ তুলছেন জোড়াফুলের নেতারা। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পায়ের তলা থেকে তোষণের মাটি সরে যাওয়ায় এবং ভোটব্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়েই এখন প্রলাপ বকছেন পিসি-ভাইপোর চেলারা। বাংলার মানুষ ভালো করেই বোঝেন, আসল সামাজিক ন্যায় কী আর তোষণ কী!

সংবিধানের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের সীমা বজায় রেখেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং আইনি পথে এই ওবিসি তালিকা সংশোধন করেছে শুভেন্দুর গেরুয়া সরকার। যোগ্য ও প্রকৃত পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করল—তাদের নীতি শুধুই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। তোষণের অন্ধকার কাটিয়ে বাংলা আজ আসলেও এক নতুন ও ন্যায়পরায়ণ ভোরের আলো দেখল।

আপনার কী মনে হয়? ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া ৭৫টি মুসলিম ওবিসি বাতিল করে ৬২টি হিন্দু সম্প্রদায়কে এই ওবিসি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া কি আসলেও শুভেন্দু সরকারের সবথেকে সেরা সিদ্ধান্ত? জানান আপনার মতামত !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *