এবার উত্তরবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে এইমস , আইআইটি এবং বিশ্বমানের ক্যানসার হাসপাতাল। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসে এই মেগা ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিশ্লেষকরা বলছেন উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি এবং বিশ্বমানের ক্যানসার হাসপাতালের ঘোষণা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের মানুষ অভিযোগ করে এসেছেন যে, রাজ্যের বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অধিকাংশই কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গকেন্দ্রিক। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এত বড় বিনিয়োগের ঘোষণা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে
উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এক অভিনব প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপি মন্ত্রীরা এখন থেকে সপ্তাহে অন্তত একবার করে জনতা দরবার কর্মসূচির আয়োজন করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মন্ত্রীরা সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের মুখোমুখি হবেন এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে চলমান প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করবেন। নিয়মিত এই বৈঠকের ফলে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি কোণায় সমস্ত সরকারি প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
জনতা দরবার কর্মসূচির ঘোষণা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের কাজ অনেক সময় ধীরগতিতে চলে বা স্থানীয় স্তরে সমস্যার কারণে আটকে যায়। সেই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের সরাসরি মানুষের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন, তেমনই অন্যদিকে প্রশাসনের উপরও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চাপ তৈরি হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে সংগঠন ও জনসংযোগ আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। উত্তরবঙ্গের জন্য জনতার দরবার কর্মসূচি সত্যি তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু অধিকারী। বাগডোগরায় নেমে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে জেলা বিজেপি কার্যালয় পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর রাস্তায় জনতার ঢেউ। পথে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের আবদার মেটাতে বেশ কয়েকবার দাঁড়াতে হল শুভেন্দু অধিকারীকে। জেলা বিজেপি কার্যালয়ে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে উত্তরকন্যায় যান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতোই।