বাংলায় ফের বাড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি! ভোট মিটে যাওয়ার পর সাধারণত ধাপে ধাপে বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু এবার সেই ছবিটাই যেন বদলে গেল। রাজ্যে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার আরও ৫০ কোম্পানি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়াল ১০০ কোম্পানিতে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে কি নতুন করে কোনও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নতুন কোনও ঘটনা নয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে স্পর্শকাতর এলাকায় তাদের মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পরেও বাহিনী রেখে দেওয়া, তার উপর আবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে দেওয়া এই সিদ্ধান্তই তৈরি করেছে নতুন কৌতূহল। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
নতুন করে যে ৫০ কোম্পানি বাহিনী বাংলায় আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছে বিএসএফ, সশস্ত্র সীমা বল বা SSB এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা CRPF। অর্থাৎ একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাজে লাগানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই যাতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই লক্ষ্যেই বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তার পরিধি। তবে এখানেই শেষ নয়। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের বিশেষ দলগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি চালানো হবে। কোথায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, কোথায় অতিরিক্ত নজরদারি দরকার সেই অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ফলে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়বে, তেমনই স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কড়া নজরদারি দেখা যেতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে, ভোট না থাকলে এত বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন? কারণ সাধারণত নির্বাচনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত থাকে। ভোট শেষ হলে ধীরে ধীরে সেই বাহিনী রাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবারও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু ৫০ কোম্পানি বাহিনী রেখে দেওয়ার পর নতুন করে আরও ৫০ কোম্পানি পাঠানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে কিছুটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
তবে প্রশাসনের তরফে আপাতত সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, কোনও বিশেষ ঘটনা বা নতুন কোনও আশঙ্কার কারণে নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করা, সংবেদনশীল এলাকায় টহল বাড়ানো এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এই তিনটি বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বাহিনীর সংখ্যা বাড়লেও এর সঙ্গে কোনও জরুরি অবস্থা বা বিশেষ বিপদের সম্পর্ক নেই বলেই প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ভোটের পর বাংলায় কেন দ্বিগুণ করা হল কেন্দ্রীয় বাহিনী? এই বিপুল বাহিনী ঠিক কোন কোন এলাকায় মোতায়েন হবে, তাদের নজরদারি কতটা বাড়বে, আর আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এর কী প্রভাব পড়বে সেদিকেই এখন নজর। প্রশাসন বলছে, উদ্দেশ্য একটাই শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। কিন্তু ভোট-পরবর্তী বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বাড়তি উপস্থিতি যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
