ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে এবার বড়সড় আইনি সংকটের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। একাধিকবার আদালতের সমন ও নোটিস এড়িয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল কৃষ্ণনগর জেলা আদালত। তুলসী মালা সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত বক্তব্য ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি এলাকার বাসিন্দা ৬ জন মহিলার দায়ের করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁদের দাবি— মহুয়া মৈত্র বারবার এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে চরমভাবে আঘাত করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত একাধিকবার মহুয়া মৈত্রকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠায়। এমনকি গত ১২ই আগস্ট ও ১৮ই আগস্ট তাঁকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনেও তিনি সশরীরে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের প্রতিনিধি পাঠান।
আদালতে শুনানিপর্বে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী মহুয়ার অনুপস্থিতির কারণ দর্শিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের আর্জি জানালেও বিচারক তা স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দেন। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়— আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে অভিযোগকারী বা আসামিকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে, তারপরই পরবর্তী আবেদন বিবেচনা করা হবে। বারবার নির্দেশ অমান্য করার ফলেই আদালত কোনো বিকল্প না পেয়ে কৃষ্ণনগরের এই দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টেও ডিম ছোড়া বিতর্ক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল কৃষ্ণনগরের এই সাংসদকে। তবে তার কিছুদিন কাটতে না কাটতেই নিজ শহর কৃষ্ণনগরের জেলা আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে নতুন করে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তো নিম্ন আদালতের এই কড়া বার্তার পর মহুয়া মৈত্র এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন নাকি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
