ইউসিসি থেকে ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আইন, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়েও নতুন আইন আনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

সরকার গঠনের সাড়ে চার মাসের মধ্যেই একাধিক বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব বর্ধমানে এক সভা থেকে তিনি জানালেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক নতুন আইন আনার পথে এগোবে তাঁর সরকার। সেই তালিকায় রয়েছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা UCC, ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আইন, ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ সংক্রান্ত আইন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হল ‘এক দেশ, এক আইন’। সেই লক্ষ্যেই বাংলায় দ্রুত UCC আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর আগে বিধানসভায় UCC নিয়ে খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে এবার প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বিষয়টি ফের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

তবে UCC-তেই থামছে না সরকারের প্রস্তাবিত আইন করার পরিকল্পনা। ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পৃথক আইন আনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে আইন আনার ঘোষণা করেছেন তিনি। এই দুটি শব্দ রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত হলেও, ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত আইনে ঠিক কোন ধরনের কার্যকলাপকে সংজ্ঞায়িত করা হবে এবং কী ধরনের বিধান রাখা হবে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট নয়।

এদিকে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যে এক লক্ষ চাকরি দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ১২ হাজার কনস্টেবল নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর কলকাতা পুলিশে নিয়োগ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের দিকেও এগোনোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

শুধু পুলিশ বা শিক্ষক নিয়োগ নয়, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দফতর মিলিয়ে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেখানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

নিয়োগ প্রসঙ্গে আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছিল।
এদিনের সভায় মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই দেড় কোটির বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। যাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনও সুবিধা পাননি, তাঁদেরও ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এখন নজর থাকবে ঘোষিত আইনগুলির খসড়া কীভাবে তৈরি হয়, কবে তা বিধানসভায় আসে এবং প্রস্তাবিত বিধানগুলির চূড়ান্ত রূপ কী দাঁড়ায়। একইসঙ্গে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোন দফতরে কত নিয়োগ হয়, সেই দিকেও থাকবে নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *