রাজ্যের বহুল চর্চিত ‘গুন্ডা দমন বিল’ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে জল্পনায় জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দিনভর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো এই বিলে সই না করে তা ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিরোধীদের সেই শোরগোল ও কটাক্ষকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে মাঝরাতে নবান্নে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, বিলটি আদৌ রাষ্ট্রপতির টেবিলেই পৌঁছয়নি; তা বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিচারধীন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে যে, রাজ্য সরকারের পাঠানো এই বিলে রাষ্ট্রপতি সই করেননি এবং রাজ্যকে “রিভার্স গিয়ার” খেতে হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার যা পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা সম্পূর্ণরূপে আইন মেনেই করে। রাতে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে ঘটনার আসল সত্যতা তুলে ধরেন তিনি।
নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে বিলটি নিয়ে এত আলোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তার দুটি মূল অংশ ছিল।
প্রথম অংশটি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সুদের হারে তিন গুণ জরিমানা আদায়ের আইন পাস হয়েছে। সেই আইনের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই আমরা অনেকগুলো কার্যকরী পদক্ষেপও নিয়েছি। এমনকি আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ও সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিলটির দ্বিতীয় অংশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয় অংশটি মূলত ‘প্রিভেনটিভ গ্রেফতার’ বা প্রতিরোধমূলক আটক সম্পর্কিত। এই আইনের খসড়ায় কোথাও ‘গুন্ডা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি; ওটি সংবাদমাধ্যম ও সাধারণের ব্যবহৃত ভাষা। সংবিধানের সপ্তম শিডিউলের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারের মধ্যেই এই আইন আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় জামিনযোগ্য যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেখানে ৩ বছর পর্যন্ত সাজার বিধানকে জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালা যেভাবে এনডিপিএস (NDPS) আইনের ক্ষেত্রে সংশোধনী এনেছিল, আমরাও সেই পথেই হেঁটেছি। জামিনযোগ্য ধারাকে জামিন অযোগ্য করার কারণেই নিয়মমাফিক কেন্দ্রের কাছে এটি পাঠানো প্রয়োজন ছিল।”
রাষ্ট্রপতির কাছে বিলটি ফেরত আসার খবরকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যোগ করেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে এখনও পৌঁছায়ইনি। কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পেরেছি, রাষ্ট্রপতির টেবিলে পাঠানোর আগে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকসহ বেশ কয়েকটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তাই বিল ফেরত আসার দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
বিরোধীদের কড়া ভাষায় নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা এই বিলের বিরোধিতা করছে, তারা মূলত দুষ্কৃতীদেরই আড়াল করার চেষ্টা করছে। কারণ তারা জানে, বিলটি পাশ হলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, এই বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিলবেই।
