Four Police Officers Suspended for Failing to

শুভেন্দুর মনোনয়নে অশান্তি সামাল দিতে না পারায় সাসপেন্ড ৪ পুলিশ অফিসার! শুরু বিভাগীয় তদন্ত!

অমিত শাহের উপস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। তবে, এদিন ভবানীপুরে নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় তার মিছিল ঘিরে শুরু হয় অশান্তি। যা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের সমালোচনার এক বিষয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া, এই ঘটনার জেরে পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ। ফলে কলকাতা পুলিশের ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে কমিশন সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে। ওইদিন হাজরা মোড় থেকে সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত রোড শো করেই মনোনয়ন জমা দিতে যান শুভেন্দু। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে তার মিছিল যাওয়ার সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, মাথায় কালো কাপড় বেঁধে সে সময় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিলে ঝাপিয়ে পড়েন এবং তাদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা তর্কা-তর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। যা পরবর্তীতে ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছোয়। যদিও কড়া হাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট ও আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি আলাদা অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দু’টি মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে ওই অশান্তির ঘটনার জেরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের কীভাবে ওই পরিস্থিতি তৈরি হল এবং কেন অন্য দলের সমর্থকদের জমায়েত করতে দেওয়া হল, সে কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-র কাছেও। এমনকি, ভবানীপুরে ঘটে যাওয়া এই অশান্তির পরই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৈঠক সেরেছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, মূলত বে-আইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিজেপির কর্মসূচিতে আগে থেকেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া ছিল। কিন্তু তৃণমূলের তরফে জমায়েতের কোনো অনুমতি ছিল না বলেই দাবি করেছে বিজেপি। তাহলে এমনটা সম্ভব হল কিভাবে?

এক কথায়, ভোটের মুখে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও পুলিশের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। আর সে কারণে যা-ই সিদ্ধান্ত নিতে হোক না কেন, তাতে কোনো দ্বিমত নেই কমিশনের। এদিকে দুয়ারে ভোট চলেই এসেছে, ফলে বাংলায় অশান্তির আবহাওয়াকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করতেই তৎপর হচ্ছে রাজ্য পুলিশ ও কমিশন। সেই সঙ্গে দিকে দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রভাবও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ সক্রিয়। কিন্তু এত কড়া পাহারাতেও হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েই যাচ্ছে। আর সে কারণেই সে সকল পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে সেই ছক কষতেই এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *