India possesses a weapon that spares no enemy,

ভারতের কাছে এমন এক অস্ত্র আছে যা ৫০০০ কিমি দূরে থাকা শত্রুকেও রেহাই দেয় না! রাডারও ধরতে হিমশিম খায় এই অস্ত্রগুলি!

বর্তমানে যুদ্ধ যেন জল-ভাত হয়ে উঠেছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতও লাগাতার নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। তবে, আজকাল যুদ্ধ মানে কামান, বন্দুক বা জেট ফাইটার নয়। বরং, মিসাইল, ড্রোন এসবের ব্যবহারকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ এগুলি হাজার হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। আর সে কারণেই আমেরিকা, চীনের মতো ভারতও এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, যা নিমিষেই মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মিসাইল আদতে একটি রকেটের মত কাজ করে। তবে, সেই রকেটের ওজন বহন ও নির্দিষ্ট টার্গেটে গিয়ে পড়ার ক্ষমতার উপরেই কিন্তু পুরো বিষয়টা নির্ভর করে। আর এই লিস্টের একদম ওপরের দিকে থাকা ‘গেম চেঞ্জার’ মিসাইলগুলি নিয়েই আজকের এই ভিডিওতে আলোচনা করবো।

✓ তালিকার প্রথমেই রয়েছে অগ্নি-5। না, এটি কোনো সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল’ বা ICBM। যা বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার মিসাইলও বটে। এর রেঞ্জ প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ, এর আওতায় পুরো এশিয়া এবং অর্ধেক ইউরোপ চলে আসবে। এর মূল বিশেষত্ব—এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং এতটাই দ্রুত গতিতে এগো এই মিসাইল যে শত্রুর রাডার একে ধরার আগেই কাজ শেষ করে দেয়। একে ‘চিন-কিলার’-ও বলা হয়, কারণ চিনের যে কোনো প্রান্ত এখন এর মাধ্যমেই ভারতের নিশানায়।

✓ এরপরেই রয়েছে অগ্নি-4। এর রেঞ্জ প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার। এটিকে খুব দ্রুত নির্ভুলভাবে ডেপ্লয় করা যায়। তাছাড়া, মাঝারি দূরত্বের হামলার ক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অর্থাৎ, তিরুপতি থেকে ছাড়লেও এটি শ্রীনগর পেরিয়ে ওদিকে পৌঁছে যাবে।

✓ এই লিস্টের তিন নম্বরে রয়েছে অগ্নি-3। এর বিশেষত্ব হল—অত্যন্ত ভারী যুদ্ধাস্ত্র বা ওয়ারহেড বহন করতে পারে। আর এর রেঞ্জ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার।

✓ না, অগ্নি-2 এই লিস্ট থেকে বাদ পড়েনি। কারণ মোবাইল লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম থেকে এটি খুব সহজেই ছোঁড়া যায়। তাছাড়া, এর রেঞ্জ প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রু ঘাঁটির থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে এনেই এই মিসাইল লঞ্চ করা যায়।

এছাড়া, স্বল্প দূরত্বে হামলা চালানোর জন্য অগ্নি-1ও দারুণ কার্যকরী। এর রেঞ্জ ৭০০ থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে শুধু যে স্থলপথে মিসাইলের শক্তি বৃদ্ধি করেছে ভারত, এমনটা কিন্তু নয়। জলপথে চলাচল করা সাবমেরিনও এহেন মিসাইল বহন করতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম K-4 মিসাইল। যেটি আদতে একটি সাবমেরিন লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল তথা SLBM। ভারতের INS Arihant ক্লাসের সাবমেরিন থেকে এটি মূলত ছোড়া হয়। জানলে অবাক হবেন, সমুদ্রের গভীর থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে এটি নিমেষেই ধ্বংস করতে পারে। এমনকি, জলের নিচ থেকে আক্রমণ করা হয় বলে, শত্রু জানতেও পারে না এই মিসাইলটি কোথা থেকে এলো। এছাড়া, জলপথের আরেকটি দুর্ভেদ্য মিসাইল হল K-15। এটি প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ কভার করতে সক্ষম।

তবে, শুধু যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষকে আঘাত করলেই তো আর হল না, দরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-ও। সে কারণেই ভারতের নতুন স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রলয় এই তালিকায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যেটি LAC বা সীমান্তে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে অতুলনীয়। এটি একটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল। শত্রুর ফাইটার জেট, ড্রোন বা অন্য কোনো মিসাইল যদি ভারতের আকাশে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে ‘আকাশ’ তাকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়। আর এক্ষেত্রে এর সাফল্যের হার প্রায় ৯৬%। না, এগুলি কোনো যুদ্ধের উসকানি নয়, বরং এগুলি শান্তির গ্যারান্টি। আর সত্যি বলতে, ভারত সবসময় শান্তিতে বিশ্বাসী। কিন্তু যদি কেউ সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে, তবে ভারতের এই ব্রহ্মাস্ত্রগুলো জবাব দিতে প্রস্তুত। আর সে জন্যই তো ভারতকে এখন সকলেই সমীহ-র চোখে দেখে। ভারতের এই সামরিক শক্তি বর্তমানে গর্ব হয়ে উঠেছে। আপনিও কি এর জন্য গর্বিত? জানান কমেন্টে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *