অসমে আগামী ৯ এপ্রিল একদফায় ১২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। তার আগেই প্রকাশিত হল VoteVibe-এর “Vote Tracker” মতামত জরিপ, যা প্রকাশ করেছে CNN-News18। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেতে পারে ৮২ থেকে ৯২টি আসন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন INDIA জোট পেতে পারে ৩০ থেকে ৪০টি আসন। এছাড়াও, বদরুদ্দিন আজমলের AIUDF পেতে পারে ২ থেকে ৪টি আসন, এবং প্রমোদ বোরোর UPPL-এর ঝুলিতে যেতে পারে ০ থেকে ২টি আসন।
ভোটের আগে প্রকাশিত সমীক্ষায় স্পষ্ট ইঙ্গিত আবারও শক্তিশালী অবস্থানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এই সমীক্ষা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানুষের পছন্দ। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এখনও এগিয়ে রয়েছেন অনেকটাই। সমীক্ষা বলছে, ৪৭.১ শতাংশ মানুষ তাঁকেই আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গৌরব গগৈ পেয়েছেন ৩৭.৩ শতাংশ সমর্থন। অন্যদিকে, বদরুদ্দিন আজমল এবং অখিল গগৈ
দুজনেই পেয়েছেন মাত্র ২.৮ শতাংশ করে সমর্থন।
সরকারের কাজ নিয়েও মানুষের মতামত মিশ্র। ৩১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সরকার খুব ভালো কাজ করেছে। ১৩.৭ শতাংশের মতে—ভালো। তবে ১৬.৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন সরকারের কাজ গড়পড়তা। আর সমালোচনাও কম নয়, ১৭ শতাংশ মানুষ বলছেন কাজ খারাপ, এবং ১৩.৮ শতাংশের মতে—খুব খারাপ। ভোটের শতাংশের হিসাবেও এগিয়ে বিজেপি। সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ৪৩.৯ শতাংশ ভোট,
কংগ্রেস পেতে পারে ৩৭.৭ শতাংশ, আর AIUDF-এর সম্ভাব্য ভোট ২.৮ শতাংশ। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল সমর্থনের পিছনে আসল কারণ কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় ফ্যাক্টর হতে পারে ‘অরুণোদয় প্রকল্প ৩.০’। এই প্রকল্পের আওতায় মার্চ মাসেই প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৯ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। মোট ৩,৬০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে সরকার, যা একদিনে করা অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এবার একটু ফিরে দেখা যাক আগের ফলাফল।
২০২১ সালের নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছিল ৭৫টি আসন, যার মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছিল ৬০টি আসনে। ২০১৬ সালেও বিজেপি ৬০টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছিল। সব মিলিয়ে, সমীক্ষা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে অসমে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তবে, গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে ভোটবাক্স। আগামী ৯ এপ্রিল একদফায় ভোটগ্রহণ আর তারপরই সামনে আসবে আসল ফলাফল।
