সরকারি প্রকল্পের টোপ দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ! নয়াগ্রামে ধরা পড়ল বিজেপি নেতা!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও প্রশাসনিক আঙিনায় বিজেপির অমানবিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত চেহারা আরও একবার প্রকাশ্যে এল। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক অসহায় গৃহবধূকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো নয়াগ্রামের বিজেপি নেতাকে। ধৃতের নাম তরণী মাহাতো, যিনি এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির বুথ সভাপতি এবং মণ্ডল কমিটির অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। বিজেপি নেতারা ভোটের আগে মুখে বড় বড় নারী সুরক্ষার বুলি আউড়লেও, বাস্তবে যে তাঁদের দলীয় পদাধিকারীরাই সাধারণ মহিলাদের ওপর এই ধরনের নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক চরম প্রমাণ।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি টাকা কেন ওই গৃহবধূর অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি, তা খতিয়ে দেখার নাম করে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় বিজেপি নেতা তরণী মাহাতো। অভিযোগ, সেই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে মুখ বেঁধে গৃহবধূর ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই মহিলার স্বামীকেও খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মুখ বন্ধ রাখলে অন্নপূর্ণা যোজনার আটকে থাকা টাকা এবং আবাস যোজনার সরকারি পাকা বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অপরাধ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত বিজেপি নেতা।
তবে হুমকির মুখে নতিস্বীকার না করে নিগৃহীতা সাহসের পরিচয় দিয়ে স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করতে গেলে চতুর তরণী মাহাতো এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় এবং পাশের গোপীবল্লভপুর এলাকায় অন্যান্য বিজেপি নেতাদের আশ্রয়ে গা-ঢাকা দেয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং পুলিশে অভিযোগ জানানো আটকাতে বিজেপি নেতৃত্ব ওই পরিবারকে আড়াই দিন কার্যত নজরবন্দি করে রাখে। একই সাথে বেআইনি সালিশি সভা ডেকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চলে অনবরত হুমকি।
অবশেষে সমস্ত ভয় ও বাধা উপেক্ষা করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের নজর এড়িয়ে জঙ্গল পথ ধরে প্রায় ২৬ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে নয়াগ্রাম থানায় পৌঁছান নিগৃহীতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। লিখিত অভিযোগ পেয়ে শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পলাতক বিজেপি নেতা তরণী মাহাতোকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার তাকে আদালতে তোলা হলে দু’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। বিজেপি নেতার এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আদিবাসী অধিকার মঞ্চের সর্বভারতীয় সম্পাদক ডাঃ পুলিনবিহারী বাস্কে এবং সিপিআই(এম)-এর জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টোপ দেওয়া বিজেপি নেতৃত্বের এই নগ্ন ও পাশবিক রূপের বিরুদ্ধে আজ কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে আপামর রাজ্যবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *