বাংলায় ভোট পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। আর তাই জোর কদমে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। যদিও আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে আগামী ৫ বছরের জন্য কে বসবেন। তবে, তার আগেই নিজেদের জয়ী করে তুলতে প্রাণপণ লড়ে চলেছেন সকল রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যেই কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বাংলায় এবার দু’দফায় হবে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফায় ভোট হবে ২৩শে এপ্রিল ও পরবর্তী দফা হবে ২৯শে এপ্রিল। আর এই আবহেই অন্য রাজ্যে বসবাসকারী পরিবার থেকে জানতে চাওয়া হল, ভিনরাজ্যের বাঙালিরা পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদলে কি ভাবছেন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম সমীক্ষা চালিয়েছে। সেই রিপোর্ট থেকেই জানা গিয়েছে, দেশের অন্য রাজ্যে বসবাসকারী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা বাংলায় সরকার পরিবর্তন নিয়ে দারুণ আশাবাদী। তাদের অনেকেই দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের সর্বনাশ করছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে চপ্পল পরেন, আর সে কারণেই তিনি চান রাজ্যবাসীও চপ্পলই পড়েই থাকুক। অন্য আরেকজন দাবি করেছেন, তিনি ও তার পরিবার চান বাংলায় পরিবর্তন হোক। তারা সকলেই মোদীকে ক্ষমতায় দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, এবারের ভোটে সরকার বদলাতে তারা সাইকেল হোক বা বাইকে যে কোন উপায়ে এবার ভোট দিতে যাবেন-ই। কারণ বাংলাকে এবার ‘সোনার বাংলা’ করে তুলতেই হবে বলে গলা তোলেন তিনি।
বাইরের রাজ্যে বাস করা আরেক বঙ্গবাসী জানান, তিনি রাজনীতি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু না জানলেও তার মনে হয় এবার অন্তত সরকারের পরিবর্তন হওয়া দরকার। কারণ এ রাজ্যে কোনো কাজ নেই আর সে কারণেই দিন দিন বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা। তাই তিনি চান, মোদীজী ক্ষমতায় এসে বাংলাকে সুরাটের মতো উন্নত করে তুলুক। জানলে অবাক হবেন, বর্তমানে গুজরাটের সুরাটে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ বাঙালি বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই চাইছেন, নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসে সুন্দর জীবিকা নির্বাহ করে পরিবারের সঙ্গে দিন কাটাতেন। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্বিমুখী লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে। আর সে কারণেই বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাও কয়েকটি মূল বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেমন—দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল এবং একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া তৈরি করছে। যাকে সামনে রেখেই বিজেপি নিজেদের প্রচারের গুটি সাজাচ্ছে। পাশাপাশি কংগ্রেস এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ভোট কাটাকাটির রাজনীতি বিজেপির জন্য সহায়ক হতে পারে। সেইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মতো স্থানীয় নেতার সক্রিয়তা তো রয়েই-ছে। তবে, এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত প্রভাবশালী মুখ এবং লক্ষীর ভান্ডারের মতো জনমোহিনী প্রকল্পের মোকাবিলা কতটা দক্ষ হাতে করতে পারে বিজেপি।sir
