আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলস্তরে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি আরও মজবুত করতে এবং রণকৌশলকে চূড়ান্ত রূপ দিতে অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। সভাপতি পদে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার দীর্ঘ ১৪ মাস পর চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে বুধবার ২৭০ সদস্যের এই মেগা কমিটির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন ও অভিজ্ঞ মুখের সুষম ভারসাম্য বজায় রেখে তৈরি এই কমিটিতে একদিকে যেমন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাখা হয়েছে, তেমনই সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মূল স্রোতে নিয়ে আসা হয়েছে।
সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ‘অধিকারী গড়’ হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে পূর্ণ আস্থা রেখেছে পদ্মশিবির। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে সরাসরি তুলে দেওয়া হয়েছে তমলুক সাংগঠনিক জেলার গুরুদায়িত্ব, আর কাঁথির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাবেন প্রবীণ নেতা শিশির অধিকারী। এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, সাংসদ রাহুল সিনহা থেকে শুরু করে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, তাপস রায় ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। একই সাথে অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ এবং দীপক বর্মন সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা এই কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন।
শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষিত এই নতুন কমিটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ মুখদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু, রাজকমল পাঠক, কল্যাণ চৌবে, অভিজিৎ দাস ববি, উমাশঙ্কর ঘোষ দস্তিদার, এবং হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র ডা. রথীন চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ সংগঠকদের ফের রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংগঠনের ভিত মজবুত করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য থেকে নির্বাচিত সমস্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের পদাধিকারবলে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং মন্ত্রীদের পাশাপাশি স্থান দেওয়া হয়েছে দলের ৪১ জন বিধায়ককে।
সামনেই উৎসবের মরশুম মিটলেই কলকাতা ও হাওড়া সহ গোটা রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বেজে উঠবে নির্বাচনের দামামা। পুরভোটের এই মহারণকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। আর সেই প্রস্তুতিকে আরও গতিশীল করতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন দলের শীর্ষ নেতা নীতিন নবীন। কলকাতায় পা রেখেই নতুন রাজ্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসবেন এবং পুরভোটের নির্বাচনী ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করবেন। সব মিলিয়ে, শীর্ষস্তরে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই নতুন সমীকরণকে হাতিয়ার করেই এবার রাজ্যের পুরসভাগুলি দখলের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।
