বিরোধী জোটকে ধুয়েমুছে বিপুল সাফল্য!ভেবিয়া পঞ্চায়েতে আস্থাভোটে তৃণমূলের বিপুল জয়! ১৯-০ ফলাফলে ঘাসফুল শিবিরের ক্ষমতার রাশ শক্ত!

গ্রামবাংলার গণমানুষের আস্থা যে এখনও রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপরই অটুট, তার আরও এক জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে। সব রাজনৈতিক জলঘোলা ও অনাস্থার নাটকের যবনিকা টেনে হাসনাবাদ ব্লকের ঐতিহাসিক ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আস্থাভোটে বিপুল জয় হাসিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চায়েত হাতানোর জন্য বিরোধীদের সমস্ত ছক এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়ে ১৯-০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবার নিজেদের শক্তিশালী বোর্ড গঠন করল ঘাসফুল শিবির। ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট যে, এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের সেবায় তৃণমূলের কোনো বিকল্প নেই। আস্থাভোটের এই বিপুল জয়ের পর ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা সুনীল সরদার।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থনে ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অলিউল মণ্ডল। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক সমীকরণের আকস্মিক রদবদল ঘটে এবং প্রায় ১০ দিন আগে পঞ্চায়েতের বেশ কিছু সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সেই অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বুধবার পঞ্চায়েত কার্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে আয়োজিত হয় বহুল চর্চিত আস্থাভোট। ২৭টি আসন বিশিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েতে আস্থাভোটের দিন ভোটাভুটিতে মোট ১৯ জন সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ভোটাভুটি চলাকালীন বিরোধীদের যাবতীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ও জোটের পরিকল্পনা খাসের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। উপস্থিত ১৯ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন সদস্যের পাশাপাশি সিপিএমের ২ জন, কংগ্রেসের ৩ জন এবং ১ জন নির্দল সদস্য সার্বিকভাবে তৃণমূলের সুনীল সরদারের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে ভোট দেন। ফলে বিরোধীদের কোনো সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে ১৯-০ ভোটে জয়ী হয়ে প্রধান নির্বাচিত হন সুনীল সরদার। প্রতিপক্ষ শিবিরের পঞ্চায়েত সদস্যরাও তৃণমূলের উন্নয়নযজ্ঞের শামিল হতেই এভাবে সমর্থন জানিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
আস্থাভোটে জয়লাভের পর পুরো হাসনাবাদ ও ভেবিয়া এলাকাজুড়ে উদযাপনের জোয়ার ভেসে আসে। কর্মী-সমর্থকরা সবুজ আবির খেলে এবং মিষ্টি মুখ করিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন। নবাগত প্রধান সুনীল সরদার এলাকাটিকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং বকেয়া উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সমীকরণ যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সাধারণ সদস্য ও গ্রামীণ মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ওপরই। ভেবিয়ার এই জয় প্রমাণ করল যে অশুভ রাজনীতি বা চক্রান্ত করে তৃণমূলের শক্তঘাঁটি চূর্ণ করা অসম্ভব। হাসনাবাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় দলীয় সমীকরণ যাই হোক না কেন, সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে গ্রামীণ মানুষের আসল ভরসা যে তৃণমূলের ওপরই রয়েছে, তা আবার প্রমাণিত হলো। ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঐতিহাসিক রায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল—অনাস্থার রাজনীতি বা চক্রান্ত করে তৃণমূলের শক্তঘাঁটিতে থাবা বসানো অসম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *