বিগত তৃণমূল জমানার অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়, অর্থাৎ ২০২০ সালের ভয়াবহ আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বিলি নিয়ে এবার ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক চরম ও চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যখন এক এক করে পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির ফাইল খুলছে, ঠিক তখনই আইনের সাঁড়াশি চাপে পড়ে ভাইপোর বিপদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের প্রবীণ বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।
সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ সহ নোদাখালি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আমফানের সময় সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্র সরকারের পাঠানো টাকা প্রকৃত দুর্গতদের না দিয়ে, শুধুমাত্র বজবজ ২ নম্বর ব্লকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকা সম্পূর্ণ ভুয়ো নথি তৈরি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বিজেপি নেতার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অত্যন্ত চতুরতার সাথে একই ফোন নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকার একাধিক ভুয়ো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠানো হয়েছিল, অথচ ঝড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া প্রকৃত দরিদ্র মানুষগুলো একটি পয়সাও পাননি। আর এই গোটা মেগা কেলেঙ্কারিটি সংগঠিত হয়েছিল খোদ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি সুপারিশ ও ছত্রছায়ায়।
সে কারণেই এই অর্থপাচার ও জালিয়াতির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূল অভিযুক্ত করার পাশাপাশি তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক, বিডিও, এসডিও এবং স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে গরিবের পেটে লাথি মারার যে সংস্কৃতি তৃণমূল তৈরি করেছিল, আজ স্বাধীন প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তে তার আসল কঙ্কালসার রূপ জনসমক্ষে চলে এসেছে।
অভিষেকের জন্য আইনি বিপদ অবশ্য এখানেই শেষ হচ্ছে না। একদিকে নোদাখালি থানায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের মামলা, অন্যদিকে বিষ্ণুপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি নতুন এফআইআর দায়ের করেছেন বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ সর্দার।
সম্প্রতি আমতলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ঔদ্ধত্যের সাথে হুমকির সুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, যে নিয়মে তাঁদের অফিস ভাঙা হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকার বদলালে নাকি বিজেপির একটাও অফিস থাকবে না। একজন দায়িত্বশীল সাংসদের মুখ থেকে এমন উস্কানিমূলক ও অরাজক মন্তব্য খোদ আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। তো তোষণ, হুমকি ও ত্রাণ চুরির নোংরা রাজনীতিকে বাংলা থেকে চিরতরে নির্মূল করতে এবং আইনের হাত যে অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক তার ঘাড় অবধি পৌঁছাতে পারে তা প্রমাণ করতে, আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের এই কঠোর অবস্থান সত্যিই এক পরিচ্ছন্ন ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
