বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়ার কাউন্টডাউন বা দিন গোনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। কথায় বলে, রথের রশিতে টান পড়লেই নাকি উমা আসেন বাপের বাড়িতে; আর সেই চিরন্তন ঐতিহ্যকে মেনেই তিলোত্তমা কলকাতার নামী-দামী পুজো কমিটিগুলো তাদের দুর্গাপুজোর জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এক বৃষ্টিভেজা রবিবারে কলকাতার অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী পুজো হিসেবে পরিচিত সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের খুঁটিপুজো অত্যন্ত মহাসমারোহে সম্পন্ন হলো।
প্রতি বছরই এই পুজোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে এক আলাদা উন্মাদনা ও কৌতূহল থাকে, কারণ এই মণ্ডপে পা রাখলেই মেলে সম্পূর্ণ নতুন ও চোখ ধাঁধানো কিছু দেখার অভিজ্ঞতা। আর এবার, রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, বদলের বাংলায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোয় যে এক বিরাট ও নজিরবিহীন চমক থাকতে চলেছে, তা খুঁটিপুজোর দিনই অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পুজোর মূল কাণ্ডারী তথা বিজেপি বিধায়ক শ্রী সজল ঘোষ।
বিগত বছরগুলোতে অযোধ্যার রাম মন্দির, লাস ভেগাস স্ফিয়ার কিংবা বদ্রীনাথ মন্দিরের মতো কালজয়ী রূপক তৈরি করে যা বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুরে’-র থিমে পহেলগাঁও ও লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মেলবন্ধনে লাখো মানুষের মন জয় করেছিল; সেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার এবার পা রাখছে তার ৯০তম বর্ষে। ১৯৩৬ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক পুজোর এবারের মূল ভাবনা বা থিম হলো— ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’।
খুঁটিপুজোর মঞ্চ থেকে বিধায়ক সজল ঘোষ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, এবারের পুজো কেবল কোনো চোখ ধাঁধানো আলোর খেলা বা লৌকিক সজ্জা নয়, বরং এটি হবে এক পরম আধ্যাত্মিক ও জাতীয়তাবাদী অনুভবের বিষয়, যা কলকাতার পুজোর ইতিহাসে মানুষ আগে কোনোদিন দেখেনি। আর এই মেগা থিমকে মণ্ডপের বুকে জীবন্ত করে তুলতে দিন-রাত এক করে তুলির টান দিচ্ছেন প্রখ্যাত শিল্পী শিবশংকর দাস, যিনি দাবি করেছেন যে মণ্ডপের দ্বারোদঘাটনের পরেই মানুষ বুঝতে পারবেন এর আসল শিল্পকলা কতটা গভীর। অন্যদিকে, প্রতিমার সাবেকি ও মৃন্ময়ী রূপকে অনন্য মাত্রায় ফুটিয়ে তুলতে মৃৎশিল্পী মিন্টু পালও তাঁর নিখুঁত কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
অতীতে এই সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন খোদ দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের হাত ধরে সম্পন্ন হয়েছিল, যা রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক ছিল। আর এবার, বাংলায় নব্য সুশাসনের জমানায় এবং দেশপ্রেমের এই অনন্য আবহে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের উদ্বোধনী মঞ্চে নতুন কী চমক বা কোন ভিভিআইপি ব্যক্তিত্ব আসতে চলেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গোটা কলকাতার আপামোর পুজোপ্রেমী মানুষের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কোনো উগ্র আধুনিকতা বা তোষণের নোংরা সংস্কৃতিকে স্থান না দিয়ে, বাংলার মাটির দুর্গাপুজোকে সনাতনী চেতনা ও দেশাত্মবোধের এক পরম মিলনক্ষেত্রে পরিণত করতে এবং বঙ্গে সংস্কৃতির আসল জাগরণ ঘটাতে বিধায়ক সজল ঘোষ ও তাঁর পুজো কমিটির এই অনন্য ও জাতীয়তাবাদী উদ্যোগ সত্যিই এক গর্বিত, জাগ্রত ও প্রগতিশীল ভারতের অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
