No sooner has the party stepped down from power than questions are being raised regarding its very identity.

ক্ষমতা থেকে সরতেই দলের পরিচয় নিয়েই উঠছে প্রশ্ন! যে ঘাসফুল দেখে তৃণমূলের পরিচয় তা মমতার আঁকা নয় !

যাঁকে আমরা এতকাল জোড়া ঘাসফুল প্রতীকের জন্মদাত্রী বলে জেনে এসেছি, সেই প্রতীক নাকি আসলে তাঁর সৃষ্টিই নয়! ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই এবার সোজা তৃণমূল নেত্রীর সততার মুখোশটাই টেনে খুলে দিলেন এক প্রবীণ চিত্রশিল্পী। ১৯৯৮ সাল থেকে যে চিহ্নের ওপর ভর করে দলটা রাজনীতি করল, আজ জানা যাচ্ছে সেই লোগো তৈরির আসল কৃতিত্ব নাকি স্রেফ চুরি করা হয়েছিল! ১৫ বছরের স্বৈরাচারী জমানার অবসান ঘটতেই এবার নিজের প্রাণের ভয় কাটিয়ে ক্যামেরার সামনে বিস্ফোরক দাবি করলেন শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। ঠিক কী ঘটেছিল ১৯৯৮ সালের সেই লগ্নে? কীভাবে একজন সাধারণ শিল্পীর মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ?

সোমনাথ চৌধুরী পেশায় একজন খাটি শিল্পী। একসময় তিনি ছাত্র পরিষদের হাত ধরে কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। সেই সময় তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনে তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত কুমার পাঁজা তাঁর কাঁধে একটি গুরুদায়িত্ব সঁপে দেন। সোমনাথবাবুকে বলা হয়েছিল একটি বিশেষ লোগো ডিজাইন করতে। কিন্তু সরল মনের এই শিল্পী তখন জানতেনও না যে তাঁর তুলির টানে তৈরি হওয়া এই ‘ঘাসফুল’ আসলে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের পরিচয় হতে চলেছে। তিনি স্রেফ নিজের শিল্পসত্ত্বা উজাড় করে নকশাটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! দল প্রকাশের প্রথম দিনেই বদলে গেল পুরো দৃশ্যপট।
১৯৯৮ সালের পয়লা জানুয়ারি, যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হলো, সেদিন টিভির পর্দায় চোখ রেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। তিনি দেখলেন, তাঁর রাতের পর রাত জেগে তৈরি করা সেই ঘাসফুল প্রতীকটিকে নিজের আঁকা বলে বুক চিতিয়ে দাবি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! একজন সাধারণ শিল্পীর মেধা আর পরিশ্রমকে বিন্দুমাত্র সম্মান না জানিয়ে, লাইভ ক্যামেরার সামনে সেই কৃতিত্ব নিজের নামে চালিয়ে দিলেন দলনেত্রী। নিজের তৈরি করা সৃষ্টিকে এভাবে অন্য কারোর নামে চলে যেতে দেখেও সেদিন সোমনাথবাবু একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারেননি। কিন্তু কেন চুপ ছিলেন তিনি? কেন দীর্ঘ ১৫ বছর লেগে গেল এই সত্যটা সামনে আনতে?

শিল্পী সোমনাথবাবু নিজেই জানিয়েছেন সেই ভয়ঙ্কর কারণ। সেদিন ক্ষমতার লোভ আর দাপটের সামনে মুখ খুললেই তাঁর কাছে আসত প্রাণনাশের হুমকি! মাফিয়ারাজ আর রাজনৈতিক হিংসার ভয়ে দীর্ঘ দেড় দশক নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এই প্রবীণ মানুষটি। আজ যখন বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বয়েছে, যখন অত্যাচারী জমানার পতন ঘটেছে, তখন গিয়ে এই শিল্পী নিজের কাজের ন্যায্য অধিকার দাবি করার সাহস পেলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয়, তৃণমূল জমানায় শুধু মানুষের ভোট বা অধিকার নয়, সাধারণ মানুষের মেধা আর সৃষ্টিকেও কীভাবে গায়ের জোরে লুট করা হতো।
যে দলটা মানুষের আবেগ আর সততার বুলি আউড়ে ক্ষমতায় টিকে ছিল, তাদের ভিতটাই যে একটা চুরির ওপর দাঁড়িয়ে, তা আজ জলের মতো পরিষ্কার। একজন শিল্পীর কান্না আর দীর্ঘশ্বাস আজ তৃণমূলের পতনের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লোগো চুরির চরম সত্য এবং প্রবীণ শিল্পীর এই করুণ দশা নিয়ে আপনার কী মতামত? জানান কমেন্ট বক্সে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *