দুর্গাপূজার পুণ্য উৎসবকে ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে ‘শারদোৎসব’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার তথাকথিত বামপন্থী মানসিকতার বিরুদ্ধে এবার খোদ বিধানসভার অধিবেশন থেকেই চরম যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! পুজো চত্বরে দাঁড়িয়ে সনাতনী ভাবাবেগকে অস্বীকার করে কমিউনিস্ট মতাদর্শ প্রচারের যে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ চলে আসছে, এবার সেই ধারাকে সমূলে উপড়ে ফেলার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। রাজ্যের প্রতিটি দুর্গাপূজা কমিটির কাছে কড়া বার্তা পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— পূজা প্রাঙ্গণে যেসব তথাকথিত বামপন্থী সংগঠন বইয়ের স্টল দিতে আসবে, তারা যদি তাদের ব্যানারে ‘শারদোৎসব’-এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে ‘দুর্গাপূজা’ না লেখে, তবে তাদের একটিও স্টল করতে দেওয়া যাবে না!
বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন যে, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা যেভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন, তাতে কোথাও কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এই আবহের আড়ালে একদল তথাকথিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও অধ্যাপক হিন্দু এবং সনাতন ধর্মের শিকড়ে ক্রমাগত আঘাত হানার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কপালে তিলক পরা, মাথায় শিখা রাখা, গলায় তুলসীর মালা ধারণ করা কিংবা গেরুয়া বস্ত্র পরিধানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্রূপ ও টার্গেট করার এই ঘৃণ্য প্রবণতা এবার কড়া হাতে দমন করা হবে বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামপন্থীরা সনাতন ধর্মকে কেবল একটি লোকদেখানো সাংস্কৃতিক বিষয় মনে করে বলেই ‘দুর্গাপূজা’ শব্দটির বদলে ‘শারদোৎসব’ বা ‘শারদ সংখ্যা’ কথাগুলো ব্যবহার করে থাকে। বাংলার মাটি থেকে নকশাল আন্দোলন ও কমিউনিস্টদের রেখে যাওয়া এই সংকীর্ণ মানসিকতার বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলার এটাই উপযুক্ত সময় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই লড়াইয়ে প্রয়োজনে লাগাতার তিন মাস আদর্শগত যুদ্ধ চালাতেও তাঁর সরকার এবং সনাতনী সমাজ যে একবিন্দু পিছু হটবে না, সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্বে সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকালকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন— অতীতে গরিব মেহনতী মানুষের টাকা লুঠ করে রাজ্যজুড়ে আড়াই হাজার পার্টি অফিস তৈরি করেছিল বামেরা। মেধা ও যোগ্য প্রার্থীদের রাস্তায় বসিয়ে রেখে নিজেদের দলদাসদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল, এমনকি এক-একটি বাম নেতার পরিবার থেকেই অবৈধভাবে ২০ জন করে সরকারি চাকরি পেয়েছে। অতীতের ১৫ বছরের পাশাপাশি ৩৪ বছরের সমস্ত দুর্নীতির নথিপত্র বের করে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার শপথ নিয়ে শুভেন্দুcpim অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন— উৎসবের আঙিনায় দাঁড়িয়ে সনাতন সংস্কৃতিকে আঘাত করার দিন এবার বাংলায় চিরতরে শেষ হতে চলেছে।
