রাজ্যের কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে এবং আলু চাষীদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য সুনিশ্চিত করতে এবার এক বড় ঘোষণা করল নব্য রাজ্য সরকার। সোমবার চুঁচুড়ার রবীন্দ্র ভবনে হুগলি ও হাওড়া জেলার পঞ্চায়েতগুলির কাজের পর্যালোচনা ও রিভিউ মিটিং শেষে এ বিষয়ে এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিগত সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার নীতির কারণে রাজ্যের আলুর বাজার যেভাবে ধসে পড়েছিল, তার ফলে আজ রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। চাষীদের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে এবং আলু ভিন রাজ্যে রপ্তানি সহজতর করতে এবার সরকার সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অর্থ দপ্তর থেকে বাজেটে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কৃষি বিপণন দপ্তরের মাধ্যমে হিমঘর মালিক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের বিশেষ আর্থিক ছাড় বা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে হিমঘরে জমে থাকা আলু দ্রুত বাইরে পাঠানো সম্ভব হবে এবং চাষীরা তাঁদের ফসলের সঠিক দাম পাবেন। শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, পঞ্চায়েতের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন কায়েম করতে একের পর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছে নব্য সরকার। পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন রাস্তাঘাট তৈরির পাশাপাশি আবাস যোজনার তালিকা থেকে বিগত জমানার প্রায় ২৫ লক্ষ ভুয়া ও অবৈধ নাম বাতিল করা হচ্ছে এবং সঠিক উপভোক্তাদের সুবিধার্থে ভোটার কার্ডের সাথে জব কার্ড লিঙ্কের কাজ শুরু হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ আরও হুঙ্কার দেন যে, আগের সরকারের আমলে টেন্ডার ছাড়া বেনিয়মে কাজ করা, কাজের না করেই ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া এবং অর্থ তছরুপের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার ও সচিবদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এক জায়গায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে থাকা আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। তো তোষণ ও দুর্নীতির পুরনো কালো অধ্যায় মুছে ফেলে, পঞ্চায়েত স্তরে শতভাগ স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে নব্য রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্যিই এক সুশাসিত ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
