রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির এক নেতা। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।
অভিযোগকারী জয়নগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক অসিত মণ্ডল। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্যানিংয়ের বন্ধুমহল ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে বিধায়ক নাকি মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর “কোমর ভেঙে দেবেন”। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী ক্যানিংয়ে এলে তাঁকে “পোস্টের সঙ্গে বেঁধে রাখা হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অসিত মণ্ডলের বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী নয়, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে ক্যানিং থানার কাছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যানিং এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সেই সমস্ত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ বন্ধ করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের জবাব কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রেও এখনও পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা এলাকায় আরেকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় একটি কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে থেকে বস্তাভর্তি একাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে মহেশতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া লাইসেন্সগুলি থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এতগুলি ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে ওই এলাকায় এল এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পিত ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিকই খতিয়ে দেখছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং প্রশাসনিক তদন্তকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে এই নতুন অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
