সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। তবে এবার রাজ্যের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের অনুদান নীতি ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। কারণ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শ্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন— পূর্বতন সরকারের মতো রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে আর ঢালাও আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না। যার আদতেই আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন, শুধুমাত্র সেই পুজো কমিটিগুলির পাশেই দাঁড়াবে নবান্ন। আর এবার সেই অনুদান নীতি নিয়েই এক বিরাট প্রশাসনিক আপডেট সামনে এল।
নবান্ন সূত্রে খবর, যে সমস্ত পুজো কমিটির বার্ষিক পুজোর বাজেট ১০ লাখ টাকার নিচে, রাজ্য সরকার এবার শুধুমাত্র তাঁদেরকেই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। অর্থ দফতরের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবেন। অতীতে অর্থাৎ করোনা মহামারীর সময় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হয়ে বিগত বছরগুলিতে অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু সেই সাবেক প্রথা ভেঙে এবার বাজেটের ওপর এই বিশেষ সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
রাজ্যে এমন অসংখ্য ছোট পুজো কমিটি রয়েছে, যাদের বাজেট ১০ লাখ তো দূর, ৩ থেকে ৪ লাখ টাকাও ছুঁতে পারে না। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে সেই সমস্ত পুজো কমিটি সুন্দর ও বড় পরিসরে পুজো আয়োজন করতে সমস্যায় পড়ে। নবান্নের নতুন এই নীতির ফলে বড় বা বাণিজ্যিক পুজো কমিটিগুলি সরকারি সাহায্য থেকে বাদ পড়লেও, আর্থিক সংকটে থাকা ছোট ও প্রান্তিক পুজো কমিটিগুলি সরাসরি উপকৃত হতে চলেছে। তো অযথা সরকারি অর্থের অপচয় রুখে প্রকৃত প্রয়োজনভিত্তিক এই অনুদান বণ্টন ব্যবস্থা সত্যি এক নতুন ও যুক্তিভিত্তিক প্রশাসনিক ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
