The revolutionary 'ambulance app' of the BJP government in the field of health!

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিজেপি সরকারের বৈপ্লবিক ‘অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাপ’ !

পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং রোগীস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করল নতুন বিজেপি সরকার। এতদিন ধরে অ্যাম্বুল্যান্স বুকিং করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যে চরম হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া এবং কুখ্যাত দালালরাজের খপ্পরে পড়তে হতো, সেই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার চিরতরে অবসান ঘটাতে এবার এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

সোমবার বিধানসভার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই ক্যাব ও বাইক বুকিং অ্যাপের আদলে রাজ্যের নিজস্ব একটি ডেডিকেটেড ‘অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাপ’ চালু করার ঐতিহাসিক রূপরেখা পেশ করেছেন মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যের যেকোনো প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সহজে, ঘরে বসেই দেখে নিতে পারবেন তাঁদের নিকটবর্তী এলাকায় কয়টি অ্যাম্বুল্যান্স খালি রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বুকিং করার আগেই নিখুঁত ভাড়ার তালিকাও স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার এবং পশ্চিমবঙ্গকে একটি বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেখেছিলেন, তাকেই বাস্তবায়িত করতে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বিধানসভায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই অ্যাপের অধীনে ত্রিস্তরীয় অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা থাকবে— যার মধ্যে সাধারণ চিকিৎসার জন্য নরমাল, জরুরি অবস্থার জন্য মিডিয়াম এবং অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের জন্য উন্নত আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স যুক্ত থাকবে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, প্রতিটি গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে জিপিএস ট্র্যাকার বসানো থাকবে, যার ফলে সরাসরি নবান্ন ও স্বাস্থ্য দফতর থেকে এই পুরো পরিষেবাটি রিয়েল-টাইমে মনিটর করা হবে। সরাসরি রোগী ও চালকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হওয়ার কারণে মাঝখান থেকে দালালদের পকেট ভরার নোংরা সিন্ডিকেট রাজ চিরতরে গুঁড়িয়ে যাবে এবং মাস ছয়েকের মধ্যেই এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ লাইভ করে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তির এই আধুনিক মেলবন্ধনের পাশাপাশি, রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রান্তিক মানুষের কথা মাথায় রেখে এক অত্যন্ত মানবিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। নদীমাতৃক এবং অত্যন্ত দুর্গম সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জন্য এবার নিয়ে আসা হচ্ছে বিশেষ ৬টি অত্যাধুনিক ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স এবং ২টি সম্পূর্ণ ভাসমান মোবাইল মেডিকেল ইউনিট বা ওয়াটার হাসপাতাল। এর ফলে ঝড়-বৃষ্টি বা জলপথের প্রতিকূলতা পেরিয়ে সুন্দরবনের মা-বোনেদের আর চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে হবে না, বরং আধুনিক চিকিৎসা সরাসরি পৌঁছে যাবে তাঁদের দুয়ারে। তো তোষণ ও দুর্নীতির পুরনো বেহাল স্বাস্থ্য নীতিকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে দশ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবন বাঁচাতে শুভেন্দু সরকারের এই অভাবনীয় ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সত্যিই এক সুস্থ, প্রগতিশীল ও আত্মনির্ভর বাংলার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *