The ‘Spatula-and-Trowel’ Remedy! Is the Chief Minister on the path of a ‘Surgical Strike’ in a democracy?

হাতা-খুন্তির নিদান! গণতন্ত্রে কি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর পথে মুখ্যমন্ত্রী?

ভোট পুজোর জোরদার প্রস্তুতি চলছে বাংলায়। আর এই আবহে শাসক-বিরোধী সকলেই একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন। খুঁজে খুঁজে বের করছে খুঁত, যা প্রচারের ময়দানে বেশ মুখরোচক বিষয় হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গের প্রচারে বলা বেশ কিছু মন্তব্য। সেখানে তাকে মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা গিয়েছিল, কেউ যদি ভোটের সময় ভয় দেখাতে আসে তাহলে রান্নাঘরে থাকা হাতা-খুন্তি নিয়ে যেন তারা মোকাবিলা করেন। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলেও বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের সিইও-র কাছে পুরো ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী।

না, তিনি শুধু মুখ খোলেননি! নিজে সশরীরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে ‘প্রমাণ’ সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামে নালিশ ঠুকে এসেছেন। না আপাতত রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরাট তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী জনসভাগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে রাজ্যের মহিলাদের প্ররোচনা দিচ্ছেন। তিনি বাংলার মা-বোনেদের হাতে ধরে শিখিয়ে দিচ্ছেন, যদি ভোটের ডিউটিতে কর্মরত কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা বুথের ধারে-কাছে আসে, তবে তারা যেন হাতা-খুন্তি নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এ তো গেল অভিযোগের বিষয়! এরপর শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, সাংবিধানিক পদে আসীন একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে বাংলার মহিলাদের দেশের সেনাবাহিনীর ওপর এভাবে হামলা চালানোর পরামর্শ দিতে পারেন? সেই সঙ্গে তিনি সকলের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এহেন পরামর্শ সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর এক প্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নয় কি? নাকি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারের ভয়ে দিশেহারা হয়ে এমন গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি রাজ্যে তৈরি করতে চাইছেন? সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন শুধু মুখে অভিযোগ করেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। বরং, শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন ২টি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ক্লিপ ও একটি পেনড্রাইভ।

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ওই ভিডিওগুলিতে স্পষ্ট দেখা ও শোনা যাচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে জওয়ানদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার নামে মহিলাদের মনে হিংসার বীজ বপন করছেন। নন্দীগ্রামের বিধায়কের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়ে আসতে বলছেন। এর মানে কি তিনি চান নির্বাচনের দিন বুথে বুথে জওয়ানদের ওপর হামলা হোক? নাকি, তিনি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন শীতলকুচির মত কোনো ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে? যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে শান্তিপূর্ণ ভোট-ই বাংলায় হতে চলেছে এবার। ফলে বাংলার মহিলাদের হাতা-খুন্তি ব্যবহারের নিদান কোনো কাজেই লাগবে না।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এমন পরামর্শকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার সঙ্গে তুলনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া মানেই আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানানো। ফলত নন্দীগ্রামের বিধায়ক ও পদ্ম শিবিরের আর্জি, যে নেত্রী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হিংসার উস্কানি দেন, তাকে অবাধে প্রচার করতে দেওয়া মানেই সাধারণ মানুষের ও ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা চরম বিপন্ন করা। তাই অবিলম্বে যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অবশ্য এই পুরো বিষয়টিকেই হালকাভাবে নিয়েছে তৃণমূল শিবির। তাদের তরফে সেভাবে কোনো বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় এখন সে দিকেই তাকিয়ে সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *