বিগত জমানার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর একের পর এক দুর্নীতির নগ্ন রূপ প্রকাশ্যে আসতেই এবার সরাসরি রাজপথে আছড়ে পড়ল সাধারণ মানুষের তীব্র গণরোষ। হিঙ্গলগঞ্জে পঞ্চায়েত ও সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী নৃশংস হিংসায় অভিযুক্ত তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজীকে ঘিরে শনিবার তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তাল পরিস্থিতি। বছরের পর বছর ধরে এলাকায় অবাধে চলা দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং কাটমানি রাজের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জানিয়েও প্রশাসনের কোনো হেলদোল মেলেনি। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভে চলা সেই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা যখন হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে ঢোকেন, তখন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও বিজেপি সমর্থকরা বিডিও অফিস ঘিরে ধরে বঞ্চনার কড়া জবাব চাইতে থাকেন।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অবশেষে পুলিশের ভূমিকাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায়। নিরপেক্ষ তদন্ত বা সাধারণ মানুষের বঞ্চনার কথা শোনার বদলে, পুলিশ উল্টে ভেতর থেকে বিডিও অফিসের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিতর্কিত তৃণমূল সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজীকে কার্যত আড়াল করার চেষ্টা চালায়। চোর ও দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান হিঙ্গলগঞ্জের লড়াইয়ের প্রতীক, বিজেপির জনপ্রিয় বিধায়িকা রেখা পাত্র।
বিডিও অফিসের বন্ধ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের সাথে তীব্র উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রেখা পাত্র। তিনি স্পষ্ট দাবি জানান, পুলিশ যেন অহেতুক একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে আড়াল না করে। শহিদুল্লাহ গাজীকে অবিলম্বে ব্লক অফিস থেকে বাইরে এনে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে, যাতে বছরের পর বছর ধরে চলা সরকারি টাকা লুট আর সাধারণ মানুষের ওপর চালানো অত্যাচারের হিসাব তিনি সরাসরি দিতে বাধ্য হন। তো শাসনের পরিবর্তন ঘটিয়ে কাটমানি আর তোলাবাজির পুরনো ইতিহাস উপড়ে ফেলতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে বিধায়িকা রেখা পাত্রের এই বলিষ্ঠ অবস্থান আর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদী গর্জন সত্যিই এক প্রগতিশীল ও দুর্নীতিনাশী বাংলার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে।
