সম্প্রতি দিল্লি, কলকাতা সহ দেশের একাধিক মহানগরীতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্র সরকারের একাধিক প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও কটাক্ষমূলক পোস্টার দেখতে পাওয়া গেছে। কেবল রাজপথেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে তৈরি অসংখ্য মিম ও পোস্টার রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশের উদ্যোগে অনলাইন থেকে সেই সমস্ত কনটেন্ট সরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সরকারের এই দমনপীড়নমূলক সেন্সরশিপ ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নিয়ে এবার চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন CJP-র মূল মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর সাফ প্রশ্ন— “প্রধানমন্ত্রী কি ভগবান? কোনটা আপত্তিকর আর কোনটা গ্রহণযোগ্য, তা ঠিক করার অধিকার পুলিশকে দিল কে?”
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কিত কনটেন্টগুলি মুছে ফেলার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করে সৌরভ দাস জানান, কোনটা আপত্তিকর তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতেই পারে। কোনো একজনের কাছে যা কটু, অন্যের কাছে তা সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু পুলিশকে যদি এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে দেওয়া হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার এবং ‘সেন্সরশিপ’ চাপিয়ে দেওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়। বর্তমানে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ঠিক এই জিনিসটিই ঘটছে।
একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা কিংবা তাঁকে নিয়ে নির্দোষ রসিকতা করা কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে না। সৌরভ দাসের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হালকা রসিকতা করলে সমস্যা কোথায়? মানুষ তো রসিকতা করবেই, এটা তো গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু পুলিশ ও সরকার বেছে বেছে সেই পোস্টগুলি সরিয়ে দিয়ে সাধারণ যুব সমাজের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।”
অনলাইন সেন্সরশিপের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের বচসা ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। সৌরভ দাসের দাবি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো এফআইআর দায়ের না করা হয় এবং ইতিপূর্বে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়—সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও ড. জিতেন্দ্র সিং লিখিত আশ্বাস দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা না করে দমননীতি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পুলিশ আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে। শুধুমাত্র বিহারেই ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে!
সিজেপি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে দেশের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ যুবসমাজ চুপ করে বসে থাকবে না। ছাত্র আন্দোলন সাময়িকভাবে যন্তর মন্তর থেকে সরে গেলেও, নিজেদের অধিকার আদায়ে ফের রাজপথে নামতে তাঁদের বেশি সময় লাগবে না। সেন্সরশিপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে কেন্দ্রকে অবিলম্বে লিখিত আশ্বাস রূপায়ণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
