পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন— অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোনও রকম খামতি রাখা হবে না। আর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এখন। নতুন করে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অমিত শাহ। এর ফলে রাজ্যে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৫০ কোম্পানি। আগে এই সংখ্যা ছিল ২৪০০। অর্থাৎ, ভোট যত এগোচ্ছে, নিরাপত্তার বলয় ততই শক্ত হচ্ছে।
প্রথমে ভোটের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী। পরে ১৯ মার্চ আরও ১৯২০ কোম্পানি বাড়ানো হয়। আর এখন সেই সংখ্যায় যুক্ত হল অতিরিক্ত ১৫০ কোম্পানি। এই বাহিনীর মধ্যে রয়েছে ৯৫ কোম্পানি সিএপিএফ— অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসছে এসএপি বা বিশেষ সশস্ত্র পুলিশ— যেমন মিজোরাম, অসম, মেঘালয়, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ় এবং ঝাড়খণ্ড। ভোট ঘোষণার আগেই এই জওয়ানরা রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় টহল, রুটমার্চ। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বাহিনী বাড়ানো হতে পারে। এবারের ভোট হবে মাত্র দুই দফায়— ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা ৪ মে। ২০২১ সালে যেখানে আট দফায় ভোট হয়েছিল, সেখানে এবার দফা কমানো হলেও নিরাপত্তায় কোনও ছাড় নেই। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে নিয়োগ করা হয়েছে একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি পুলিশ ও খরচ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বেড়েছে নজিরবিহীনভাবে। সব মিলিয়ে পরিষ্কার ভোট যতই সংক্ষিপ্ত হোক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততই জোরদার। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট। এখন দেখার, এত কড়া নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যে দিয়ে ভোটের মাঠ কতটা শান্ত থাকে, আর গণতন্ত্রের উৎসব কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এত বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন কি শুধুই নিরাপত্তার জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা? একদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে আস্থা, নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন তাঁরা। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে চর্চা, এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় কি ভোটের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলবে? অমিত শাহ-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এবং কমিশনের কড়া অবস্থান, দু’টো মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যে আলাদা মাত্রা পেতে চলেছে, তা বলাই যায়। এখন নজর ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের দিকে। ভোটের দিনগুলো কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, আর এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার দিন।
