বীরভূমের বিখ্যাত শক্তিপীঠ তারাপীঠে আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং তীর্থক্ষেত্রের ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হলো। কৌশিকী অমাবস্যার সময় প্রতি বছরই তারাপীঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লক্ষ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। আর সেই পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাকে বিশৃঙ্খলা মুক্ত রাখতে কৌশিকী অমাবস্যার আগের দিন, অমাবস্যার দিন এবং তার পরের দিন— টানা তিন দিন তারাপীঠ এলাকার সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদ বা টিআরডিএ-র কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি পাশ হয়। বৈঠকে উপস্থিত নবগঠিত তারাপীঠ মন্দির কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহা, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং টিআরডিএ-র আধিকারিকরা একযোগে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। আবগারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরে কেবল এই তিন দিনেই তারাপীঠ এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু বিশাল জনসমাগমের মধ্যে মদ বিক্রি বৃদ্ধির ফলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের রূপ নিত।
সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই টিআরডিএ-র চেয়ারম্যান তথা অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে এই তিন দিন মদ বিক্রি বন্ধ রাখার লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন— কৌশিকী অমাবস্যার তিন দিন মদের দোকান বন্ধ থাকলে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন অত্যন্ত সুবিধা পাবে। তবে মা তারা-র পুজো নিবেদন বা অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভক্তদের ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না, বিধিনিষেধ থাকছে কেবল মদের দোকান ও মদ বিক্রির ওপর। এখন জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে টিআরডিএ এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ। তো পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে পুজো দেওয়ার সুযোগ করে দিতে এবং তারাপীঠের পবিত্র পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রস্তাব সত্যি এক প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
